উত্তর ও দক্ষিণ—দুই সীমান্ত থেকেই একই সঙ্গে বড় আকারের সামরিক আক্রমণের সুনির্দিষ্ট আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে পড়েছে সৌদি আরব। রিয়াদের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো দাবি করেছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সরাসরি তদারকিতে এই সমন্বিত যৌথ আক্রমণের নকশা তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, উত্তরে ইরাকি শিয়া মিলিশিয়া জোট এবং দক্ষিণে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা একযোগে এই সামরিক অভিযানে অংশ নেবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদের কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোকে নিশানা করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার গোপন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সম্প্রতি সীমান্ত পার হয়ে সৌদিতে হুথিদের হামলা এই নিরাপত্তাজনিত শঙ্কাকে আরও উসকে দিয়েছে। সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি নিশ্চিত করেন, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশে হুথিদের প্রক্ষিপ্ত গোলাবর্ষণে ১ জন শিশুসহ ১১ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সৌদি নাগরিক ছাড়াও ইয়েমেন, মিসর ও পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছেন। একই সময়ে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশের সরকারি বাহিনীর ঘাঁটিতে সামরিক মহড়া চলার সময় হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে অন্তত ৩০ জন সেনা নিহত হয়েছেন। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে সরকারি সামরিক তৎপরতার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ পরিচালনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের মূল ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত করার দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছে তেহরান। আধা-সরকারি ফার্স নিউজ জানিয়েছে, নতুন রূপরেখা অনুযায়ী জাহাজ চলাচলে আপাতত তিন ধাপের নিয়ম কার্যকর হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় যথাক্রমে ইরান ও ওমান উপকূল ব্যবহার করা হলেও, সময়সীমা শেষে নির্দিষ্ট একক কেন্দ্রীয় করিডোর দিয়েই সব বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করবে। তবে আইআরএনএ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি স্পষ্ট করেন, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফেরতের মতো মার্কিন শর্তপূরণ ছাড়া বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য প্রণালি উন্মুক্ত হবে না। তদুপরি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি মার্কিন জাহাজগুলোকে সরাসরি ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন এবং ইরানি পার্লামেন্টে বিদেশি জাহাজের ট্রানজিট ফি ও কার্গো জরিমানার নতুন বিল আনা হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক দ্বন্দ্ব শিগগিরই শেষ হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তেহরান আর বেশিদিন আন্তর্জাতিক চাপ সহ্য করে টিকে থাকতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিকট বিশেষ কিছু শক্তিশালী আধুনিক অস্ত্রের সীমাহীন মজুত থাকলেও অন্য কয়েক ধরণের সামরিক সরঞ্জামের সাময়িক ঘাটতি রয়েছে।