জিম্বাবুয়ের বিখ্যাত কারিবা হ্রদে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই একটি ফেরি ডুবে অন্তত ৪৪ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে জলযানটি হ্রদের পানিতে তলিয়ে যায় বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ প্রশাসন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে কারিবা হ্রদের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, দুর্ঘটনাকবলিত সরকারি ওই ফেরিটির সর্বোচ্চ যাত্রী ধারণক্ষমতা ছিল ৯০ জন। কিন্তু ধারণক্ষমতার তোয়াক্কা না করে ফেরিটিতে প্রায় ১২০ জন যাত্রী তোলা হয়েছিল, যাদের মধ্যে অন্তত ১২ জন শিশু ছিল। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং প্রতিকূল আবহাওয়াই এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবারের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সিভিল ডিফেন্স ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হ্রদের পানিতে একাধিক মৃতদেহ ভেসে থাকতে দেখা যায়। আকস্মিক এই ফেরিডুবিতে যাত্রীদের অধিকাংশই সাঁতরে তীরে ওঠার সুযোগ পাননি।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জিম্বাবুয়ে সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট (সিপিইউ) জানিয়েছে, ফেরির নিবন্ধিত টিকিট বিক্রির আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী অবস্থান করছিলেন। তবে টিকিট কেনার প্রয়োজনীয় বয়সসীমার নিচে থাকা শিশুদের সংখ্যা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় মোট কতজন শিশু সেখানে ছিল, তা শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ এই কৃত্রিম হ্রদে চলাচলকারী দুর্ঘটনাগ্রস্ত জলযানটি জিম্বাবুয়ের রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (রিডা) মালিকানাধীন ছিল। এটি নিয়মিতভাবে জিম্বাবুয়ের উত্তরাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ কারিবা শহরের সঙ্গে সংলগ্ন বিভিন্ন দ্বীপ ও প্রত্যন্ত মাছ ধরার গ্রামগুলোর মধ্যে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পারাপারের একমাত্র প্রধান মাধ্যম হিসেবে নিয়োজিত ছিল। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম শোক ও শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।