শিশুদের জন্য চ্যারিটি প্রোগ্রামের নামে কোটি কোটি ডলার অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণা করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের (FBI) 'মোস্ট ওয়ান্টেড' তালিকায় থাকা আন্তর্জাতিক অপরাধী মাইকেল মারাসিগান এখন ফিলিপাইনে বহাল তবিয়তে আত্মগোপনে থেকে রাজকীয় ও বিলাসী জীবনযাপন করছেন।
প্যাসিফিক ডেইলি নিউজের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা যায়, এফবিআইয়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালানো এই পলাতক আসামিকে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার একটি অভিজাত স্প্যানিশ রেস্তোরাঁয় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। গত মার্চ মাসে সংগৃহীত কিছু ছবিতে দেখা যায়, মারাসিগান দামি পোশাকে সোনালী রঙের ঘড়ি বা ব্রেসলেট পরে ঘোরাফেরা করছেন, যার চেহারার সঙ্গে এফবিআইয়ের কাছে থাকা মগশটের মিল পাওয়া গেছে।
নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন গুয়ামের একটি বিঙ্গো হল থেকে অবৈধ জুয়ার ব্যবসা পরিচালনা, অর্থ পাচার এবং জালিয়াতির অভিযোগে বিগত ২০২৫ সালের মে মাসে মারাসিগানকে প্রায় ২২ বছরের কারাদণ্ড দেয় মার্কিন আদালত। তিনি ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হাওয়াইয়ের ‘শ্রাইনার্স হসপিটাল ফর চিলড্রেন’-এ শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য অর্থ পাঠানোর ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেন। এই বিপুল অঙ্কের প্রতারণার অর্থ থেকে মারাসিগান ও তার সহযোগীরা নিজেদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার আত্মসাৎ করেন।
আমেরিকা ও ফিলিপাইনের দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে আদালতের কাছে চিকিৎসার অজুহাতে ফিলিপাইনে যাওয়ার সাময়িক অনুমতি নেন তিনি। তবে দেশটিতে পৌঁছেই আমেরিকান আদালতের আত্মসমর্পণের আদেশ অমান্য করে আত্মগোপনে চলে যান এই চতুর অপরাধী।
আদালত মারাসিগানকে ‘অ্যালোহা শ্রাইনার্স’ দাতব্য সংস্থাকে ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ ছাড়াও প্রায় ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ডলারের জরিমানা করেন। এফবিআই বর্তমানে তাঁকে গ্রেপ্তার বা তাঁর অবস্থান সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের নগদ পুরস্কার ঘোষণা করে রেখেছে।
ফিলিপাইন কনস্যুলেট জেনারেল জানিয়েছে, দেশটির আইনের জটিলতা ও দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ার কারণে মারাসিগান গ্রেপ্তার হলেও তাঁকে সরাসরি আমেরিকার কাছে হস্তান্তর করা কঠিন। তবে এফবিআইয়ের হনুলুলু আঞ্চলিক দপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, মার্কিন বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি করতে তাঁরা কাজ অব্যাহত রেখেছেন।