ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬,  ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের নিরাপত্তা কৌশল, পুতিনের কাছে তা স্রেফ 'শিশুর খেলা'"


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৪:২৯ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গতিবিধি গোপন রাখতে সম্প্রতি ব্যবহৃত উড়োজাহাজ বদলের ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে সংবাদ শিরোনাম হলেও, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চারপাশে ঘিরে থাকা সুগভীর গোপনীয়তার চক্রের কাছে এটি কার্যত শিশুতোষ বিষয়। প্রেসিডেন্ট পুতিনের কর্মকাণ্ড ও অবস্থান এতটাই রহস্যে ঢাকা যে, তাঁর দপ্তরের ভিডিওতে দৃশ্যমান গাছের পাতার সতেজতা বা শুষ্কতা বিশ্লেষণ করেও তাঁর আসল অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বসেরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা।

পুতিনের কোনো বৈঠকের ভিডিও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারের সময় ক্রেমলিন থেকে নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হলেও, সেই তথ্য কতটুকু সত্য তা নিয়ে রয়েছে প্রবল সংশয়। অতি সম্প্রতি অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা পুতিনের বিভিন্ন বৈঠকের ভিডিওতে ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা গাছের পাতা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন—একই তারিখে প্রচারিত দুটি ভিন্ন ভিডিওর একটিতে গাছের পাতা সতেজ, আবার অন্যটিতে শুকনো। এতে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে বৈঠকগুলো একেবারেই ভিন্ন ভিন্ন দিনে ধারণ করা হয়েছিল।

পুতিনের প্রতিদিনের চলাচলের এই চমকপ্রদ কৌশলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রশাসনের প্রেসিডেন্টদের উড়োজাহাজ বদলের ঘটনার তুলনা করে বিশিষ্ট রুশ অনুসন্ধানী সাংবাদিক মিখাইল রুবিন রসিকতা করে বলেন, “ট্রাম্পের এগুলো কৌশল তো স্রেফ শিশুদের খেলা!”

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধান ও স্যাটেলাইট চিত্রে উন্মোচিত হয়েছে যে, পুতিন তাঁর গতিবিধি আড়াল করতে রাশিয়ার বিভিন্ন স্থানে থাকা বাসভবনগুলোতে হুবহু একই রকম দেখতে একাধিক অফিস কক্ষ বা স্টুডিও তৈরি করে রেখেছেন। ফলে টেলিভিশনে প্রচারিত বৈঠকে তাঁকে দেখা গেলেও তিনি ঠিক কোন শহরের বাসভবনে আছেন, তা বোঝার বিন্দুমাত্র উপায় থাকে না।

এ ছাড়া মহাকাশ থেকে স্যাটেলাইট নজরদারি এড়াতে রাশিয়ান সিক্রেট সার্ভিস (এফএসও) পুতিনের যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক ও গোপন একটি বিশেষ সাঁজোয়া ট্রেন ও রেললাইন তৈরি করেছে। সাধারণ যাত্রীবাহী ট্রেনের মতো দেখতে এই বিশেষ ট্রেনের ভেতরে রয়েছে সর্বাধুনিক জিম, বিলাসবহুল স্পা এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল যোগাযোগ সরঞ্জাম। গ্রামীণ এলাকায় পুতিনের একাধিক গোপন প্রাসাদের কাছেই এই ট্রেনের জন্য আলাদা গোপন স্টেশনও নির্মাণ করা হয়েছে।

রাশিয়ায় সরকারি আমলাদেরও পুতিনের এই কৃত্রিম বাস্তবতার সঙ্গে কঠোরভাবে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। ক্রেমলিন থেকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার না হওয়া পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা প্রেসিডেন্টের বৈঠকের তথ্য প্রকাশ করতে পারেন না। অনেক সময় এক সপ্তাহ বা তারও আগের ধারণকৃত ভিডিও প্রচারের দিনে রুশ কর্মকর্তাদের এমন ভাব ধরে অভিনয় করতে হয় যেন বৈঠকটি ওইদিনই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ক্রেমলিনের সংবাদ কভার করা নির্বাসিত সংবাদকর্মী ফারিদা রুস্তামোভা জানান, রাষ্ট্রপতি পুতিনের অবস্থান নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়া ক্রেমলিনের জন্য খুবই সাধারণ বা ‘ডালভাতের’ মতো নিয়মিত ব্যাপার। রুশ সাংবাদিকদের পরিভাষায় পূর্বের ধারণ করা এসব বাসি সংবাদকে বলা হয় ‘কনসার্ভি’ বা কৌটাজাত খাবার। যদিও ক্রেমলিন থেকে বরাবরই এই বিভ্রান্তিকর কৌশলের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মহামারী পরবর্তী সময়ে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পুতিনের এই অতি-সতর্কতা চরম রূপ নিয়েছে। এই ব্যবস্থা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং মার্কিন কূটনীতি ও পশ্চিমা নজরদারির মুখে তিনি যে সার্বক্ষণিক রাষ্ট্র পরিচালনায় অত্যন্ত সক্রিয় আছেন—বিশ্বমঞ্চে সেই মনস্তাত্ত্বিক ভাবমূর্তি ফুটিয়ে তুলতেই এমন অদ্ভুদ কৌশল বজায় রাখা হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর