ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬,  ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমিতেই ‘সেদ্ধ’ হচ্ছে আলু

গত ১২২ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দক্ষিণ কোরিয়ায়, নিহত ৩১


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৩:৪৮ পিএম

পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে ভয়াবহ দাবদাহ ও তীব্র তাপদাহ। এই রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রার সবচেয়ে করুণ শিকার হচ্ছেন দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষকরা। তীব্র গরমের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি হংকংয়ে তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এবং তীব্র রোদে পুড়ছে জাপানও।


এই আঞ্চলিক তীব্র তাপদাহের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটির তাপমাত্রা এতটাই রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে যে ক্ষেতের মাটিতেই কৃষকদের আলু সেদ্ধ হওয়ার মতো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।


দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ইয়াঙ্গু জেলার কৃষক লি সাং-হায়ুক তাঁর আলু ক্ষেতের মাটি খুঁড়ে বিক্রির উপযোগী কোনো ফসলই পাচ্ছেন না। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও তাঁর ক্ষেতের ফসল সম্পূর্ণ ভালো ও সতেজ ছিল। কিন্তু হঠাৎ চরম তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কয়েকদিনের ব্যবধানে পুরো ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে যে আলুগুলো তোলা হচ্ছে, সেগুলো অতিরিক্ত গরমে গলে নরম হয়ে গেছে এবং ভেঙে যাচ্ছে, যা দেখতে অবিকল সেদ্ধ আলুর মতো। হতাশা প্রকাশ করে ওই কৃষক জানান, মাঠের তাপমাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে মনে হয় তাঁরা কোনো তপ্ত ওভেনের ভেতর দাঁড়িয়ে আছেন।


দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এসবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এটি কোনো নির্দিষ্ট একটি বা দুটি ক্ষেতের ঘটনা নয়; পুরো অঞ্চলের একই অবস্থা। আমার এই সীমাহীন কষ্টের কথা ভাষায় প্রকাশ করার ভাষা নেই।”


গত ২ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইয়াংসানে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯০৪ সালে দেশে আধুনিক উপায়ে তাপমাত্রার হিসাব রাখা শুরুর পর থেকে গত ১২২ বছরের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।


এই তীব্র ও অসহনীয় তাপদাহে ইতোমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তীব্র তাপে প্রাণ গেছে প্রায় ৯ লাখ গৃহপালিত পশুর এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খামারের অন্তত ১৪ লাখ মাছ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির সরকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রার বিশেষ সতর্কতা জারি করে সাধারণ মানুষকে বাইরের সব ধরনের কাজকর্ম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।


দেশটির অভূতপূর্ব এই সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মায়ুং মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে বলেছেন, “আমরা আজ এমন এক ভয়াবহ ও অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি, যা অতীতে আমরা আর কখনো দেখিনি।”


আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর