ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে এক শিক্ষার্থীকে কার্যালয়ে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে হলের প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ ও ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিতে কার্যালয় অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখান সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সিসিটিভি ফুটেজের দাবি পূরণ না করে মধ্যরাতে প্রোভোস্টকে বের করে নেওয়াকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে হল সংসদের ভিপি ও জিএসসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট প্রাধ্যক্ষের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন রোবোটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো. ইব্রাহীম। ওই পোস্টের জেরে গত রোববার তাকে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে রোববার রাত ৭টার পর প্রোভোস্ট অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এতে ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি, ডাকসু নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে প্রতিনিধিদল প্রোভোস্টের সঙ্গে দেখা করে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানালেও প্রাধ্যক্ষ তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাতে সেখানে পৌঁছান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাং এবং সহকারী প্রক্টরবৃন্দ। তবে সিসিটিভি ফুটেজ না দেখানো পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত পৌনে ৩টার দিকে ছাত্রদলের একটি মিছিল প্রাধ্যক্ষ কার্যালয়ের দিকে এগোলে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসানসহ অন্তত ৬ জন আহত হন। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে যান ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরও। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর নির্যাতিত শিক্ষার্থী ইব্রাহিম দুঃখ প্রকাশ করে জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বের করলেই আসল ঘটনা প্রকাশ পেত। কিন্তু প্রোভোস্টকে নিরাপত্তা দিয়ে বের করে নেওয়া এবং পুরো বিষয়টিকে ছাত্র সংগঠনগুলোর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ায় তিনি মূল বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।