সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব এবং সুন্দর অবয়বের প্রতি আকর্ষণের কারণে বিশ্বজুড়ে অনেক পুরুষের মধ্যেই অঙ্গসৌষ্ঠব ও পেনিসের পরিধি বাড়াতে ফিলার নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ম্যানচেস্টারের জেসন নামের এক ব্যক্তি জানান, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার ব্যবহারের মাধ্যমে তাঁর পেনিসের পরিধি প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি ও তাঁর সঙ্গী ফলাফলে সন্তুষ্ট এবং এটি তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। জেসনের মতে, বর্তমান সমাজে শুধু নারীদের ওপরই সুন্দর ও নিখুঁত চেহারার চাপ নেই, বরং পুরুষদেরও সামাজিক প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয়।
তবে এই সাময়িক কসমেটিক প্রক্রিয়ার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে মারাত্মক সব শারীরিক ঝুঁকি। বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই পদ্ধতিতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড নামের একটি জেল-সদৃশ উপাদান ক্যানুলার মাধ্যমে ইনজেকশন হিসেবে শরীরে প্রবেশ করানো হয়। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের কসমেটিক চিকিৎসক ডা. জাভেদ হুসেইন জানান, প্রক্রিয়াটিতে প্রায় তিন হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত খরচ হতে পারে এবং এর প্রভাব ছয় থেকে নয় মাস স্থায়ী থাকে। তবে প্রক্রিয়াটি ভুলভাবে সম্পাদিত হলে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে টিস্যুর মৃত্যু বা নেক্রোসিস হতে পারে, যার ফলে অঙ্গ কালো হয়ে পচে যেতে পারে। এমনকি এমন গুরুতর জটিলতার শিকার হয়ে অনেককে জরুরি বিভাগে ভর্তি হতে হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) পরামর্শক ইউরোলজিক্যাল সার্জন প্রফেসর বৈভব মোদগিল জানান, যেসব রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা ব্যর্থ হয়, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নেয়। অনেক ক্ষেত্রে ত্বক পুরোপুরি নষ্ট হয়ে খসে পড়তে শুরু করে। আরেক ভুক্তভোগী অ্যালেক্স জার্মানিতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিগামেন্ট কাটার প্রক্রিয়া ও চর্বিকোষ ইনজেকশন করিয়ে তীব্র যন্ত্রণা এবং ভয়াবহ কালশিটে দাগের মুখোমুখি হয়েছিলেন। অ্যালেক্স স্বীকার করেন, পর্নোগ্রাফি ও সামাজিক মাধ্যমে নিখুঁত আকারের কাল্পনিক ধারণার প্রভাবেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনস প্রায় তিন হাজার ৭৫০ জন পুরুষকে অন্তর্ভুক্ত করা একাধিক গবেষণা পর্যালোচনা করে এই ধরনের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কড়া সুপারিশ জারি করেছে। তাদের মতে, ফিলার দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ওপর কী ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, সে সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। তদুপরি, এই সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত যোগ্যতার নিয়ম না থাকায় অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রোগীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞগণ অবিলম্বে এই খাতের জন্য একটি জাতীয় নিবন্ধনব্যবস্থা চালু এবং কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।