সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 19
সিরাজগঞ্জের লাহেড়ি মোহনপুর ইউনিয়নে মসজিদ, কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা ও প্রতিকার চেয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহীন মণ্ডল।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের আঁচলগাতী গ্রামের মসজিদ, কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে গত ১১ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করেন শাহীন মণ্ডল। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি পূর্ববর্তী কমিটির কাছে মসজিদ, কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠের আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখতে চান।
শাহীন মণ্ডলের অভিযোগ, হিসাব ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়ার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় তিনি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
লিখিত অভিযোগে শাহীন মণ্ডল উল্লেখ করেন, গত ১০ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে আলিফ উদ্দিনের সহযোগী মো. ধনি মণ্ডল মসজিদের ইমামের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি কমিটির অন্য সদস্যদের নিয়ে ধনি মণ্ডলের কাছে গেলে, অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি জানান—ইমাম মসজিদে এলে তাকে অপমান ও মারধর করা হবে। পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সেলিম পারভেজ (রঞ্জু)কে জানানো হলে তিনি বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। তবে অভিযুক্ত আলিফ উদ্দিন এ বিষয়ে বিভিন্ন টালবাহানা করেন এবং সমাধানের উদ্যোগে সাড়া দেননি বলে জানা যায়।
এ ছাড়া আঁচলগাতী জামে মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে পূর্ববর্তী কমিটির কোষাধ্যক্ষদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা উত্তেজিত হয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ করেন শাহীন মণ্ডল। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এসব ঘটনার পর থেকে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
শাহীন মণ্ডল আরও অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী কমিটির কাছে মসজিদ, কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হলেও তা যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। স্বচ্ছতার স্বার্থে এসব প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. আলিফ উদ্দিন। তিনি বলেন, তারা কাউকে কোনো ধরনের হুমকি বা ভয়ভীতি দেখাননি। অভিযোগগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং অভিযোগকারীরাই কমিটির অন্য সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, পূর্ববর্তী কমিটির দায়িত্বে থাকাকালে মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে নতুন কমিটির কাছে তা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে জানা যায় আলিফ উদ্দিনের কথার কোনো সত্যতা নেই । এছাড়া তার সহযোগীদের মাধ্যমে গ্রামের সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যাচার ও অশালীন পোস্টার টাঙানোর অভিযোগও করেছেন কয়েকজন গ্রামবাসী।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবিদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কেউ যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর