ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

মুগ্ধসহ ১১ হত্যা মামলা: ২৬ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আদেশ আজ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১০:১০ এএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএ শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় চার্জ গঠন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেওয়া হবে। ২৬ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিন্ধান্ত ঘোষণা করবে ট্রাইব্যুনাল।

আজকের নির্ধারিত আদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ বিচারিক প্যানেলে বিষয়টি তালিকার শীর্ষে রয়েছে। বিচারিক প্যানেলের অপর দুজন জ্যেষ্ঠ সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনাল সূত্র থেকে জানা গেছে, বহুল আলোচিত এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোট ২৬ জন এজাহারনামীয় আসামির মধ্যে ইতোমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করে বিচারিক হেফাজতে রাখা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. শাহ আলম এবং তুরাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তারকৃত আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী।

অন্যদিকে এই মামলার বাকি ১৮ জন আসামি বর্তমানে আত্মগোপনে বা পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহমুদুল হাসান, সাবেক কনস্টেবল মো. আবু ছায়েম, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন আল সোহেল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর মো. ফরিদ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর ডিএম. শামীম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আনিছুর রহমান নাঈম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আফছার উদ্দিন খান, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার, সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুরতাফা বিন ওমর এবং যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন।

এর আগে গত ৩ আগস্ট মামলাটির চার্জ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশন ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ যুক্তি ও শুনানি গ্রহণ পর্ব শেষ হয়। শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে ২৬ জন আসামির বিরুদ্ধেই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এনে চার্জ গঠনের আবেদন পেশ করা হয়। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি বা ডিসচার্জ আবেদনের মাধ্যমে তাদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করেন। উভয়ে পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদেশের জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেন বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনাল।

মামলার বিবরণীতে দুটি প্রধান অভিযোগ বিস্তৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়। প্রথম অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ জুলাই রাজধানীর উত্তরা এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আন্দোলনরত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর চরম নৃশংসতায় নির্বিচারে প্রাণঘাতী অস্ত্র থেকে গুলি চালানো হয়। সে সময় গুলিতে বিইউপি শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজন নিহত হন। এই হামলায় উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়কে পুলিশের বিশেষ এপিসির চাকায় নির্মমভাবে পিষ্ট করার পর সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট ও লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। একই হামলায় মেহেদী হাসানসহ একাধিক ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগ অনুসারে, ১৯ জুলাই একই অঞ্চলে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পুনরায় এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ করা হলে রিদোয়ান শরীফ রিয়াদ জয়সহ চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং রাইসুল রহমান রাতুল গুরুতর আহত হন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই সমস্ত ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর