ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১৪ বছর পর পর্দায় ফিরেই তোলপাড়, দেব-শুভশ্রীর রসায়নে নতুন গুঞ্জন টলিপাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ সখীপুরে মাটির নিচে মিলল দুটি বাক্স, উদ্ধার রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু মদ ও সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতন আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিব আখতার আহমেদ আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি: ভারতের নতুন নীতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পাই ড্রোন’ আটক করল ইরান এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়

বরফ ধসে বন্ধ নদীর প্রবাহ, ভূমিকম্পের পর হঠাৎ নেমে আসে পানি


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৭:১১ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভোতেকেশি নদীতে সৃষ্ট এ বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত এবং প্রায় ৫০০ মানুষ আহত হয়েছেন। চীনের স্বায়ত্ত্বশাসিত তিব্বতের কাছাকাছি এলাকায় এ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে লেন্দে নদীতে বরফ ধসের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই বরফ ধসের কারণে নদীর পানিপ্রবাহ আটকে যায়। ফলে পানি স্বাভাবিক গতিতে নিচের দিকে প্রবাহিত না হয়ে এক জায়গায় জমা হতে থাকে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে জমে থাকা সেই পানি হঠাৎ নেপালের দিকে নেমে আসে। একই সময় তিব্বতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের কম্পনে বরফের স্তর নড়ে গিয়ে আটকে থাকা পানি একসঙ্গে ভোতকেশি নদীতে প্রবাহিত হয়। এর ফলেই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।

কান্তিপুর টিভিকে রিজান ভক্ত জানিয়েছেন, চীনের বিজ্ঞানীদের কাছ থেকেও এ বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বরফ ধস ও ভূমিকম্পের মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রিজান ভক্ত বলেন, নেপাল প্রান্তে একটি বরফ ধসের ঘটনা ঘটেছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এর ফলে লেন্দে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় তিব্বতেও ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। ফলে বরফ সরে গিয়ে নদীতে আটকে থাকা পানি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে আকস্মিক বন্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ওই সময় কোনো হিমবাহ হ্রদে বিস্ফোরণ বা হ্রদ ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রফেসর রিজান ভক্ত।

তিনি জানান, ওই এলাকায় এর আগেও হিমবাহ হ্রদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ফলে এবারের বন্যার কারণ অনুসন্ধানে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রাকৃতিক কারণ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

রিজান ভক্ত আরও জানান, গত বছরও লেন্দে নদীতে বরফ ধসের পর পানির প্রবাহ আটকে গিয়েছিল। তবে সে সময় বর্তমানের মতো ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা যায়নি। এবার আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ পানি একসঙ্গে নেমে আসায় পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বন্যাটি অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে হয়েছে—এমন সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন প্রফেসর রিজান ভক্ত। তার মতে, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও পানির প্রবাহের ধরন দেখে মনে হয়েছে, এটি সাধারণ বৃষ্টিজনিত বন্যা নয়। বরং জমে থাকা পানি হঠাৎ প্রবল বেগে নেমে আসার কারণেই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বরফ ধস, ভূমিকম্প এবং সম্ভাব্য হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে বন্যার উৎস সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর