অনলাইন রিপোর্টার
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ফের বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ চার হাজার তিনশত চুয়াত্তর টাকা কমানোর নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ বুধবার (দুই সেপ্টেম্বর) বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক জরুরি বৈঠকে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্য হ্রাসের এই তথ্য সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।
নতুনভাবে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের মানসম্মত স্বর্ণের বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ একত্রিশ হাজার আটশত আশি টাকা। বাজুস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশে জুয়েলারি দোকানগুলোতে নতুন এই দর কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন রেট অনুযায়ী, ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত করে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির নতুন বিক্রয়মূল্য দাঁড়াবে দুই লাখ একত্রিশ হাজার আটশত আশি টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ একিশ হাজার চারশত একচল্লিশ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এক লাখ ৯০ হাজার একশত তেইশ টাকা এবং ঐতিহ্যবাহী সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ পঞ্চান্ন হাজার তিনশত ছয় টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, জুয়েলার্স মালিকদের জন্য নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্যের ভেতরেই আবশ্যকীয় ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত করা রয়েছে। ফলে কেনাকাটার সময় সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদা করে কোনো অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে জুয়েলারি দোকানে বিক্রিত গহনার নান্দনিক নকশা, মান ও ডিজাইন ভেদে নিয়মিত মেকিং চার্জ বা মজুরি অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হবে।
সংগঠনটি আরও জানায়, সরকারি ভ্যাট, অলংকারের মজুরি এবং রত্ন বা পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে স্বর্ণ ও রুপার পুরাতন গহনা বিনিময় কিংবা পুনঃবেচাকেনার ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বনির্ধারিত নিয়মাবলী যথারীতি বহাল থাকবে। পরবর্তী নির্দেশনা বা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব নিবন্ধিত জুয়েলারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এই সার্বিক মূল্যানুপাত কার্যকর থাকবে।
এর আগে গত সোমবার (একত্রিশ আগস্ট) সকালের দিকে দেশের বাজারে সবশেষ স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে চার হাজার চারশত চুয়াত্তর টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দর দুই লাখ ছত্রিশ হাজার দুইশত চুয়ান্ন টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সে সময়কার দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ দুই লাখ পঁচিশ হাজার ছয়শত চল্লিশ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এক লাখ ৯ত্রিশ হাজার সাতশত উনচল্লিশ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনা জুয়েলারি বাজারে বিক্রি হচ্ছিল এক লাখ ৫৮ হাজার দুইশত আশি টাকা দরে। সেখান থেকে দুই দিনের ব্যবধানে আবারও বড় দরপতনের মুখে পড়ল দেশের স্বর্ণের বাজার।