ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১৪ বছর পর পর্দায় ফিরেই তোলপাড়, দেব-শুভশ্রীর রসায়নে নতুন গুঞ্জন টলিপাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ সখীপুরে মাটির নিচে মিলল দুটি বাক্স, উদ্ধার রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু মদ ও সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতন আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিব আখতার আহমেদ আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি: ভারতের নতুন নীতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পাই ড্রোন’ আটক করল ইরান এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

শাহজালাল বিমানবন্দর

বিমানকর্মীর বেল্টে মিলল ২৫ কোটি টাকার ১৪ কেজি সোনা


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৬:০৮ পিএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মীর কাছ থেকে ১২০টি অবৈধ সোনার বার উদ্ধার করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কাস্টমস আধিকারিকদের চোখ ফাঁকি দিতে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কালো আঠালো ফিতায় মোড়ানো অবস্থায় এসব সোনার বার তার পরনের বেল্টের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।


উদ্ধারকৃত এই বিশাল সোনার চালানের মোট ওজন দাঁড়ায় ১৩ কেজি ৯২০ গ্রাম (প্রায় ১৪ কেজি)। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক প্রাক্কলন অনুযায়ী এসব উদ্ধার হওয়া সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য অন্তত ২৫ কোটি টাকা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে এক ঝটিকা ও সফল অভিযান চালিয়ে এই বিশাল স্বর্ণের চালান ধরা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার সার্বিক তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।


ঘটনার বিশদ বিবরণী থেকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে রাজধানী ঢাকায় আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নির্দিষ্ট উড়োজাহাজে বিশাল সোনার চালান চোরাচালান হচ্ছে—এমন এক নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে নিয়োজিত কাস্টমস কর্মকর্তা ও প্রতিরোধ দলের চৌকস সদস্যরা উড়োজাহাজে বিশেষ ও নিবিড় তল্লাশি চালাতে যান।


উড়োজাহাজের নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট যান্ত্রিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিচে নেমে আসার মুহূর্তে তাদের শরীর ও সরঞ্জাম নিবিড়ভাবে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কারিগরি সহকারী পদে কর্মরত মো. সোয়েব গাজীর পরনের বেল্টের ভেতরের অংশে বিশেষ ফিতায় মোড়ানো সন্দেহজনক কিছু শক্ত বস্তু শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে সেগুলো সতর্কতার সাথে খুলে উদ্ধার করে কাস্টমস হাউসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গোয়েন্দা ও দায়িত্বশীল সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তালিকাভুক্ত করা হয়।


নিবিড় পরীক্ষা শেষে সেখান থেকে মোট ১২০টি মূল্যবান ও নিখাদ সোনার বার উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে কাস্টমসের দায়িত্বশীলদের ধারণা, সরকারি নির্ধারিত বিপুল পরিমাণ শুল্ক-কর সম্পূর্ণ ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সোনার বারগুলো দেশে আনা হয়েছিল। পরবর্তী ধাপে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপদ সুরক্ষাবলয় ডিঙিয়ে এগুলো বাইরে পাচারের ছক ছিল। তবে কাস্টমস ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ তৎপরতায় চোরাচালান চক্রের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।


আটককৃত এই বহুমূল্য সোনার বারগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরের নিরাপদ ও সুসংরক্ষিত মূল্যবান পণ্য সংরক্ষণাগারে জমা রাখা হয়েছে। কাস্টমস আইন অনুযায়ী চোরাচালানে আটক ও বাজেয়াপ্ত করা পণ্যের যথাযথ নিষ্পত্তির নিয়ম মেনে উদ্ধারকৃত সম্পূর্ণ সোনা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। পাশাপাশি এই সুসংগঠিত সোনার চোরাচালান চক্রের সঙ্গে বিমানের আর কোনো কর্মকর্তা বা বাইরে কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তৃত তদন্ত চালানো হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর