ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

শাহজালাল বিমানবন্দর

বিমানকর্মীর বেল্টে মিলল ২৫ কোটি টাকার ১৪ কেজি সোনা


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৬:০৮ পিএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মীর কাছ থেকে ১২০টি অবৈধ সোনার বার উদ্ধার করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কাস্টমস আধিকারিকদের চোখ ফাঁকি দিতে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কালো আঠালো ফিতায় মোড়ানো অবস্থায় এসব সোনার বার তার পরনের বেল্টের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।


উদ্ধারকৃত এই বিশাল সোনার চালানের মোট ওজন দাঁড়ায় ১৩ কেজি ৯২০ গ্রাম (প্রায় ১৪ কেজি)। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক প্রাক্কলন অনুযায়ী এসব উদ্ধার হওয়া সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য অন্তত ২৫ কোটি টাকা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে এক ঝটিকা ও সফল অভিযান চালিয়ে এই বিশাল স্বর্ণের চালান ধরা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার সার্বিক তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।


ঘটনার বিশদ বিবরণী থেকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে রাজধানী ঢাকায় আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নির্দিষ্ট উড়োজাহাজে বিশাল সোনার চালান চোরাচালান হচ্ছে—এমন এক নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে নিয়োজিত কাস্টমস কর্মকর্তা ও প্রতিরোধ দলের চৌকস সদস্যরা উড়োজাহাজে বিশেষ ও নিবিড় তল্লাশি চালাতে যান।


উড়োজাহাজের নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট যান্ত্রিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিচে নেমে আসার মুহূর্তে তাদের শরীর ও সরঞ্জাম নিবিড়ভাবে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কারিগরি সহকারী পদে কর্মরত মো. সোয়েব গাজীর পরনের বেল্টের ভেতরের অংশে বিশেষ ফিতায় মোড়ানো সন্দেহজনক কিছু শক্ত বস্তু শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে সেগুলো সতর্কতার সাথে খুলে উদ্ধার করে কাস্টমস হাউসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গোয়েন্দা ও দায়িত্বশীল সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তালিকাভুক্ত করা হয়।


নিবিড় পরীক্ষা শেষে সেখান থেকে মোট ১২০টি মূল্যবান ও নিখাদ সোনার বার উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে কাস্টমসের দায়িত্বশীলদের ধারণা, সরকারি নির্ধারিত বিপুল পরিমাণ শুল্ক-কর সম্পূর্ণ ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সোনার বারগুলো দেশে আনা হয়েছিল। পরবর্তী ধাপে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপদ সুরক্ষাবলয় ডিঙিয়ে এগুলো বাইরে পাচারের ছক ছিল। তবে কাস্টমস ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ তৎপরতায় চোরাচালান চক্রের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।


আটককৃত এই বহুমূল্য সোনার বারগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরের নিরাপদ ও সুসংরক্ষিত মূল্যবান পণ্য সংরক্ষণাগারে জমা রাখা হয়েছে। কাস্টমস আইন অনুযায়ী চোরাচালানে আটক ও বাজেয়াপ্ত করা পণ্যের যথাযথ নিষ্পত্তির নিয়ম মেনে উদ্ধারকৃত সম্পূর্ণ সোনা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। পাশাপাশি এই সুসংগঠিত সোনার চোরাচালান চক্রের সঙ্গে বিমানের আর কোনো কর্মকর্তা বা বাইরে কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তৃত তদন্ত চালানো হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর