স্টাফ রিপোর্টার
গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির নিয়মিত নিউজ লেটার ‘গ্রামীণ অবসর’-এর ৮ম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠান শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ) রাজধানীর ধানমন্ডির একটি রেস্টুরেন্টে অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে সকাল সাড়ে ১১ টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পুনঃপেনশন এবং বিভিন্ন ন্যায্য ভাতা আজও বাস্তবায়ন না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সাথে তাঁরা বিলম্ব না করে অবিলম্বে হাইকোর্টের সুস্পষ্ট রায় বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সভাপতি কে এম শহীদুল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সমিতির সহ-সভাপতি মো. হাবিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সূচনালগ্নে উপদেষ্টা এ কে এম গোলাম মাওলা ও মহাসচিব মো. সিদ্দিকুর রহমান উপস্থিত সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে সমিতির সাধারণ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন আবু নোমান মো. বজলুর রহমান, মো. হায়দার আলী, মো. আবুল খায়ের, আবদুর রশিদ খান, শরীফ মোহাম্মদ, জগদীশ ভঞ্জ, সৈয়দ মো. এনাম উল্লাহ, প্রদীপ্ত শাহীন ও সুভাশিষ ভৌমিক সহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা গ্রামীণ ব্যাংকের দীর্ঘদিনের অবদানকারী কর্মচারীদের অবমূল্যায়নের চিত্র তুলে ধরে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয় যে, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রায় ১৪ হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার-পরিজন বর্তমানে চরম আর্থিক ও সামাজিক দুর্দশার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন। এত দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তাঁদের জীবন ধারণের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না। গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এ ধরনের অসংবেদনশীল মনোভাব ও চরম উদাসীনতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বক্তারা।
সভায় উপস্থিত বক্তারা গ্রামীণ ব্যাংকের সকল অবসরপ্রাপ্তদের নিজ নিজ জায়গা থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আইনি ও নৈতিক দাবি আদায়ে সোচ্চার হওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। তাঁরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এই ধরনের টালবাহানা আর কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। দিনের পর দিন হাইকোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করা অনভিপ্রেত। তাই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকার, পুনঃপেনশন ও ভাতাদি অবিলম্বে প্রদান নিশ্চিত করতে তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং দেশের সুশীল ও সচেতন মহলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে নিউজ লেটার ‘গ্রামীণ অবসর’-এর নিয়মিত ও বস্তুনিষ্ঠ প্রকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা এই পত্রটির মানসম্মত বৈচিত্র্যময় প্রকাশনা এবং এতে স্থান পাওয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী লেখনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এই নিউজ লেটারটি অবসরপ্রাপ্তদের অধিকার আদায়ের কণ্ঠস্বর হিসেবে আগামী দিনেও জোরালো ভূমিকা পালন করে যাবে।
আকাশজমিন / আরআর