ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ফ্রেমে বন্দি নস্টালজিয়া: তরুণেরা ফিরছে আশির দশকের ফ্যাশনে


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১১:১৯ এএম

ধরুন, একটি পুরোনো অ্যালবামের পাতা ওল্টাচ্ছেন। ছবিতে আপনার পরনে আশির দশকের ফ্যাশনেবল পোশাক, মাথায় সেই সময়ের জনপ্রিয় হেয়ারস্টাইল আর পেছনে কৈশোর বা যৌবনের ফেলে আসা কোনো স্মৃতিকাতর গলি। ছবিটির রঙ কিছুটা ফ্যাকাশে ও ফিকে, যা দেখে মনে হওয়া স্বাভাবিক—চার দশক আগের কোনো এক অলস বিকেলে অ্যানালগ ক্যামেরায় বন্দি হয়েছিল মুহূর্তটি। কিন্তু বাস্তব বিষয় হলো, ছবিটি আশির দশকে তোলা তো নয়ই, এমনকি ছবিতে থাকা ব্যক্তির জন্মও হয়তো সেই সময়ে হয়নি। পুরো ছবিটি তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)।

 

বর্তমানে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ‘রেট্রো’ বা আশির দশকের আবহ তৈরি করা ছবির ব্যাপক জোয়ার দেখা যাচ্ছে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের ছবি দিয়ে আশির দশকের লুক তৈরি করে প্রোফাইল পিকচার বা পোস্ট হিসেবে শেয়ার করছেন। কেউ নিজেকে দেখছেন আশির দশকের তরুণদের মতো ক্যাজুয়াল বা ভিনটেজ পোশাকে, কেউ ফিরে যাচ্ছেন পুরোনো দিনের চিরচেনা গলিতে, আবার কেউ বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তৈরি করছেন এমন কিছু মুহূর্তের ছবি, যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই ছিল না। প্রযুক্তির ভাষায় একে ‘এআই জেনারেটেড ইমেজ’ বলা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেটিজেনদের কাছে এটি যেন এক অবাস্তব কিন্তু মধুর সময়ভ্রমণ।

 

এই নস্টালজিয়ার মূল রহস্য লুকিয়ে আছে সেই সময়ের অনন্য দৃশ্যমান সংস্কৃতির মধ্যে। আশির দশক মানেই রঙিন ও ঢোলা শার্ট, ক্যাসেট প্লেয়ার, ভিসিআর, অ্যানালগ ফিল্ম ক্যামেরা, ফোলা চুল আর পুরোনো সিনেমার পোস্টার সংবলিত এক বিশেষ আবহ। বর্তমানের চরম পরিষ্কার ও নিখুঁত এইচডি ডিজিটাল ছবির ভিড়ে আশির দশকের ছবির হালকা গ্রেইন, ভিনটেজ ক্যান্ডি আলো আর ফিকে রঙের কৃত্রিম অসম্পূর্ণতাই এখন তরুণদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। মজার বিষয় হলো, যাদের জন্ম আশির দশকের পরে, সেই তরুণ প্রজন্মও এআইয়ের মাধ্যমে এক ধরনের ‘কল্পিত স্মৃতিকাতরতায়’ মেতে উঠেছেন।

 

প্রযুক্তির বিচারে, এআই মূলত মানুষের মুখের সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে নির্দিষ্ট নির্দেশনাবলী (যেমন—আশির দশকের ভিনটেজ আলো, পোশাক, ব্যাকগ্রাউন্ড ও কালার টোন) বিশ্লেষণ করে ছবি পুনর্গঠন করে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি ছবির ঐতিহ্যগত সত্যতা বা সততার ধারণাকে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। অতীতে ছবিকে কোনো ঘটনার সত্যতার নিখুঁত দলিল ধরা হলেও, জেনারেটিভ এআইয়ের নিখুঁত কাজের কারণে এখন অসত্য ঘটনাকেও শতভাগ বাস্তব রূপে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে। এই কারণে মেটাসহ বেশ কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে ‘AI Info’ লেবেল যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে সুন্দর ছবির পাশাপাশি প্রযুক্তির সততা বজায় রাখা সম্ভব হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর