ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

গুগল সার্চে শিক্ষকের নামে অন্যের ছবি, থানায় অভিযোগ


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৭:২১ পিএম

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত সার্চ সেবা ‘গুগল এআই ওভারভিউ’-তে ভুল তথ্য ও ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে ডিজিটাল পরিচয় বিকৃতির অভিযোগ তুলে প্রতিকার চেয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন খায়রুল ইসলাম মাহি নামে এক শিক্ষক। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

খায়রুল ইসলাম মাহি টাঙ্গাইল সদরের বুলবুল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের সাবেক শিক্ষক। তাঁর অভিযোগ, গুগলে ‘খায়রুল ইসলাম মাহি’ নামে অনুসন্ধান করলে তাঁর নাম, শিক্ষক পরিচয় ও বিদ্যালয়ের তথ্য সঠিকভাবে প্রদর্শিত হলেও প্রোফাইল ছবির স্থানে অন্য একজন ব্যক্তির ছবি দেখানো হচ্ছে।

অভিযোগকারী জানান, গুগলে প্রদর্শিত ছবিটি গাজীপুরের তৈরুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. খায়রুল ইসলামের। একই নামের দুই ব্যক্তির তথ্যের সঙ্গে ভুল ছবি যুক্ত হওয়ায় পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এতে তিনি সামাজিক ও পেশাগতভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

খায়রুল ইসলাম মাহির দাবি, বিষয়টি সংশোধনের জন্য গত কয়েক সপ্তাহে তিনি গুগলের অফিশিয়াল ফিডব্যাক ব্যবস্থা, সাপোর্ট টিম ও আইনি বিভাগে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। এ সময় সরকারি শিক্ষক পোর্টাল ‘শিক্ষক বাতায়ন’-এ থাকা তাঁর প্রকৃত প্রোফাইলসহ বিভিন্ন প্রমাণও গুগল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, গুগল কর্তৃপক্ষ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি কেস নম্বর দিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য রেখেছে। তবে এখন পর্যন্ত সমস্যাটির সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এতে ভুল তথ্য ও ছবি আরও মানুষের কাছে পৌঁছানোর আশঙ্কা করছেন খায়রুল ইসলাম মাহি।

এ অবস্থায় ভবিষ্যতে এ ভুল তথ্যের কারণে কোনো সামাজিক বা আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি টাঙ্গাইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

খায়রুল ইসলাম মাহি বলেন, “গুগলের এআই প্রযুক্তির ভুলের কারণে প্রতিদিন সামাজিক ও পেশাগতভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি। নিজের প্রকৃত পরিচয়ের যথেষ্ট প্রমাণ থাকার পরও বিষয়টি সংশোধন না হওয়ায় বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁকে আইনি ও কারিগরি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। বিষয়টি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যেতে পারে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের সঙ্গে গুগল সার্চের কয়েকটি স্ক্রিনশট এবং টাঙ্গাইল সদর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের কপি সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানান খায়রুল ইসলাম মাহি।

একই নামের ব্যক্তিদের তথ্যের সঙ্গে ভুল ছবি যুক্ত হওয়ার বিষয়টি দ্রুত সংশোধন করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিযোগকারী। তাই নিজের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর