নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রজ্ঞাপনে ‘নৌকা’ প্রতীক স্থগিত রেখে আগামী নির্বাচনের জন্য ১২০টি প্রতীক সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। একই সাথে কোনো আসনে কেবল একজন মাত্র প্রার্থী থাকলে ভোটারদের স্বাধীন মতামত প্রকাশের সুবিধার্থে ব্যালট পেপারে ‘না’ প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।
নির্বাচন
কমিশন সচিবালয় থেকে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে বলা
হয়, ১৯৭২ সালের রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল
অর্ডারের ৯৪ অনুচ্ছেদে অর্পিত
ক্ষমতাবলে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার বিধি-৯ এর উপ-বিধি (১) সংশোধন করেছে
কমিশন। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, স্থগিতকৃত প্রতীক বাদ দিয়ে নির্ধারিত তালিকা থেকে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
কমিশনের
চূড়ান্ত করা ১২০টি প্রতীকের তালিকায় স্থান পেয়েছে— আনারস, আপেল, আম, আলমিরা, ঈগল, উট, গরুর গাড়ি, গাভী, গামছা, গোলাপ ফুল, ঘণ্টা, ঘুড়ি, ট্রাক, ট্রাক্টর, ডাব, ড্রেসিং টেবিল, ঢেঁকি, তারা, ফুলের মালা, বই, বক, বটগাছ, বাইসাইকেল, বাঘ, রকেট, রিকশা, রেল ইঞ্জিন, লাঙল, লিচু, শাপলা কলি, উদীয়মান সূর্য, একতারা, কবুতর, কম্পিউটার, কলম, কলস, কলার ছড়ি, কাঁচি, কাঁঠাল, কাপ-পিরিচ, কাস্তে, কুঁড়ে ঘর, কুড়াল, কুমির, কুলা, কেটলি, কোদাল ও খেজুর গাছ।
এছাড়া
রয়েছে ঘোড়া, চশমা, চাকা, চাবি, চিংড়ি, চিরুনি, চেয়ার, ছড়ি, ছাতা, জগ, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেবিল ল্যাম্প, টেলিফোন, টেলিভিশন, তালা, থালা, দাঁড়িপাল্লা, দালান, দেওয়াল ঘড়ি, দোতলা বাস, দোয়াত কলম, দোলনা, ধানের শীষ, নোঙ্গর, পাগড়ি, পানির ট্যাপ, পালকি, প্রজাপতি, ফুলের ঝুড়ি, ফুটবল, ফুলকপি, বালতি, বেবী টেক্সি, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব, মই, মগ, ময়ূর, মশাল, মাইক, মাছ, মাথাল, মিনার, মোটরগাড়ি, মোটরসাইকেল, মোড়া, মোবাইল ফোন, মোমবাতি, মোরগ, সিংহ, সিঁড়ি, সূর্যমুখী ফুল, সেলাই মেশিন, সোনালী আঁশ, সোফা, হরিণ, হাঁস, হাত (পাঞ্জা), হাতঘড়ি, হাতপাখা, হাতি, হাতুড়ি, হারিকেন, হুক্কা, হেলিকপ্টার, হ্যান্ডশেক এবং নতুন যুক্ত হওয়া ‘না’ প্রতীক।
প্রতীক
বরাদ্দের পাশাপাশি নির্বাচনী আর্থিক লেনদেন ও ব্যয় নির্বাহের
নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, প্রার্থীরা নিজেদের নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি তাদের মনোনীত নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরও নির্বাচনী যাবতীয় ব্যয় নির্বাহে ব্যবহার করতে পারবেন।
এছাড়া
প্রজ্ঞাপনে আইনগত জটিলতা ও হলফনামা সংক্রান্ত
দুটি নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, আদালতে যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ বা চার্জ গঠিত
হয়েছে, কেবল তাদেরকেই আইনগতভাবে ‘অভিযুক্ত’ হিসেবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান
ও অন্যান্য ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের আয়কর সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক না করে ঐচ্ছিক
করা হয়েছে।