দেশের বিচার প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে একযোগে ৯৯ জন বিচারককে বদলি ও নতুন পদে পদায়ন করা হয়েছে। বিচার কাজের গতি বাড়ানো ও প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের অধীনস্থ নিম্ন আদালতের বিভিন্ন স্তরের বিচারকদের এই রদবদল করে পৃথক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আদেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পদায়িত বিচারকদের আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের বর্তমান দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।
ঘোষিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বদলিকৃত ৯৯ কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন ৪৪ জন জেলা জজ, ২৬ জন অতিরিক্ত জেলা জজ, ২৫ জন যুগ্ম জেলা জজ এবং ২ জন করে সিনিয়র সিভিল জজ ও সিভিল জজ। এদের মধ্য থেকে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিচারককে বিভিন্ন বিচারিক আদালতের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়, আইন বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইনসংক্রান্ত পদগুলোতে দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পদায়নের মধ্যে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) স্বপন কুমার সরকারকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া ঝিনাইদহের ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. মাসুদ আলীকে আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব, পাবনার পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক (জেলা জজ) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা এবং আইন বিভাগে সংযুক্ত জেলা জজ সোনিয়া আহমেদকে ডেপুটি সলিসিটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে দুদকের উপপরিচালক মো. হুমায়ুন কবীরকে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ করা হয়েছে। অপরদিকে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল আফসারকে দুদকের উপপরিচালক এবং সংস্থাটির অপর উপপরিচালক মো. আজাদুর রহমান শেখকে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট করা হয়েছে। এছাড়া আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলামকে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে বদলি করা হয়।
বিভিন্ন জেলা আদালতে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে বদলি হওয়া বিচারকদের মধ্যে রয়েছেন তাহেরা আনোয়ার ও মো. শামীম সুফি (যশোর), মো. নাহিদুর রহমান (গাজীপুর), ফাহমিদা খাতুন (মাদারীপুর), রায়হানুল ইসলাম (লক্ষ্মীপুর), মো. আক্তারুজ্জামান (মৌলভীবাজার), মো. শাহাদাৎ হোসেন (নরসিংদী) এবং মো. ছানাউল্যাহ (মাদারীপুর)। এছাড়া রংপুরের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোছা. মার্জিয়া খাতুনকে নীলফামারীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, রংপুরের অতিরিক্ত জেলা জজ মো. সুলতান মাহমুদকে পঞ্চগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিনকে কিশোরগঞ্জে বদলি করা হয়। অপরদিকে যশোরের অতিরিক্ত জেলা জজ মো. শহীদ উল ইসলামকে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট করা হয়েছে।
যুগ্ম জেলা জজ ও লিগ্যাল এইড অফিসার পদেও ব্যাপক রদবদল হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ রাহেলা পারভীনকে কিশোরগঞ্জ, ফাতেমা তুজ জোহরা মুনাকে মুন্সীগঞ্জ, জান্নাতুল রাফিন সুলতানাকে জয়পুরহাট এবং মোছা. আসমা মাহমুদকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার করা হয়েছে। মো. তারেক আজিজকে নরসিংদী, কনক বড়ুয়াকে কুড়িগ্রাম, তারিকুল ইসলামকে ঝিনাইদহ, মো. আরিফুল ইসলামকে কুষ্টিয়া, মোছা. নাসিমা খাতুনকে ময়মনসিংহ এবং জ্ঞান তঞ্চঙ্গ্যাকে বান্দরবানের চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার করা হয়। এছাড়া তানিয়া ইসলামকে ঢাকা মহানগরীতে এবং বান্দরবানের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ দাউদ হাসানকে কক্সবাজারে পদায়ন করা হয়েছে।
অন্যান্য পদের মধ্যে চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতের মো. হাসিবুল হাসানকে যশোর, নড়াইলের শারমিন সুলতানা সুমিকে রাজবাড়ী, নারায়ণগঞ্জের মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরীকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এবং ঢাকার মো. মোশাররফ হোসেনকে পঞ্চগড়ে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া মেহেরপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদুর রহমানকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব, সন্দ্বীপের সিনিয়র সিভিল জজ আবদুল্লাহ আল হাসিবকে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এবং গাজীপুরের সিভিল জজ মাসুমা রহমানকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের আইন কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়। নোয়াখালীর সিভিল জজ এস এম শামীম রেজাকে ঝালকাঠির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বদলি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, প্রশিক্ষণ বা ছুটিতে থাকা বিচারকরা ছুটি শেষে নির্ধারিত স্থানে যোগ দেবেন।
আকাশজমিন / আরআর