মাদকের মারাত্মক ছোবল থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে প্রতিটি গ্রাম, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লা থেকে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ বলয় গড়ে তোলার জোর আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল না থেকে মাদক ও মোবাইল জুয়ার বিস্তার রুখতে সমাজের সর্বস্তরের সচেতন মানুষকে একযোগে মাঠে নামতে হবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক সুধী ও নেতাকর্মী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কুশদহ ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভায় মন্ত্রী প্রতিটি পাড়া ও গ্রামে সমাজের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, আনসার সদস্য এবং গ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে কার্যকর মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করে নিয়মিত তদারকি চালানোর তাগিদ দেন।
মাদক কারবারি বা সেবনকারীদের কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে প্রশ্রয় না দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, কোথাও মাদকের বেচাকেনা কিংবা সেবনের তথ্য পাওয়া মাত্রই তা দ্রুত পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে হবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সাধারণ মানুষকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে উঠতি বয়সের তরুণদের মাঝে মোবাইল ফোনে জুয়া খেলার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো গ্রহণের পাশাপাশি এর অপব্যবহার রোধ করা না গেলে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়বে।
সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পরিবারের ভূমিকাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সন্তানরা কার সঙ্গে মেলামেশা করছে এবং মোবাইল ফোনে কী ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে, সে বিষয়ে সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি তরুণদের মাঠের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল কাজে বেশি করে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
কুশদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল আজিম আনুর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তরিকুল ইসলাম এবং ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। সভায় বক্তারা যেকোনো মূল্যে নবাবগঞ্জকে মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।