কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ভাই ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। হামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল 'বাংলা টিভি'র কুমারখালী-খোকসা প্রতিনিধি এম এ উল্লাস গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে একটার দিকে কুমারখালী পৌরসভার কুণ্ডুপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর উপস্থিতিতেই একজন পেশাদার সংবাদকর্মীর ওপর এমন হামলায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী পৌরসভার কুণ্ডুপাড়া এলাকায় সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি কাঁচা রাস্তা সংস্কার ও পাইলিং কাজে ব্যাপক অনিয়ম এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এই অনিয়মের সত্যতা যাচাই এবং সরেজমিনে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সংবাদকর্মী এম এ উল্লাস অকুস্থলে যান। এ সময় অনিয়মের চিত্র ধারণে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ভাই ও একাধিক ভাতিজা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হঠাৎ চড়াও হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাস্থলে টহলরত পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ওই প্রভাবশালী চক্রটি কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে সাংবাদিক উল্লাসকে এলোপাতাড়ি মারধর ও বেধড়ক পেটাতে থাকে, এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এদিকে, সহকর্মীর ওপর অন্যায় আক্রমণের খবর পেয়ে স্থানীয় অন্যান্য সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা দ্রুত কুণ্ডুপাড়া এলাকার দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া আচরণ শুরু করে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে সরাসরি বাধা দিয়ে তারা উপস্থিত সংবাদকর্মীদের চরম ভয়ভীতি দেখায়, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং অনেকের ব্যবহৃত মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে সংগৃহীত তথ্য ও ভিডিওচিত্র মুছে ফেলার জোর চেষ্টা চালায়। উপস্থিত পুলিশের সামনেই এমন প্রকাশ্যে গুণ্ডামি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপে স্থানীয় সচেতন নাগরিক এবং সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে।
স্থানীয় অধিবাসীদের গুরুতর অভিযোগ, সংসদ সদস্যের আত্মীয় হওয়ার সুবাদে এই প্রভাবশালী চক্রটির সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রভাব খাটিয়ে তারা এলাকায় একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে। ইতিপূর্বে কুণ্ডুপাড়ার পার্শ্ববর্তী দুর্গাপুর এলাকার রাকিব নামের এক নিরীহ ব্যক্তিকেও তারা নির্মমভাবে কুপিয়ে আশঙ্কাজনকভাবে আহত করেছিল। একের পর এক গুরুতর অপরাধ ও রক্তাক্ত ঘটনা ঘটিয়েও এই অপরাধী চক্রটি রহস্যজনকভাবে আইনের আওতার বাইরে থেকে যাওয়ায় তারা দিন দিন আরও অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
ঘটনাস্থল থেকে আহত সাংবাদিক এম এ উল্লাসকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে কুমারখালী ও খোকসার সাংবাদিক সমাজ একযোগে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সংবাদকর্মী ও বিশিষ্ট নাগরিকেরা অনতিবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে পুরো জেলাজুড়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ সাংবাদিক নেতারা।