গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সভায় জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রকৌশলীদের দায়িত্ববোধ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মন্ত্রণালয়ের জরুরি আমন্ত্রণে আয়োজিত পর্যালোচনাসভা উপেক্ষা করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—‘মন্ত্রী বড়, নাকি স্থানীয় সংসদ সদস্য বড়?’ সরকারি কাজের শৃঙ্খলা ও অগ্রাধিকারের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, দপ্তর পরিচালনায় শিথিলতা কিংবা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে অনুপস্থিত কর্মকর্তাদের নাম নথিভুক্ত করে রাখার কঠোর নির্দেশ দেন তিনি।
সম্প্রতি
রাজধানীর আগারগাঁওস্থ
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ভবনে সংস্থাটির সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনাসভায়
বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে প্রতিমন্ত্রী এই চরম অসন্তোষ
প্রকাশ করেন। পূর্বনির্ধারিত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
একটি সরকারি সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে
আমন্ত্রিত প্রকৌশলীদের অনেকের অনুপস্থিতি দেখে ক্ষুব্ধ হন তিনি। উপস্থিত
কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যকালে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রশাসনিক কাঠামোর পদমর্যাদা ও শৃঙ্খলা বুঝতে
গিয়ে তিনি দ্বিধায় পড়ে গেছেন। কর্মকর্তাদের নিয়ে কীভাবে বা কী বিষয়ে
আলোচনা চালাবেন, সেটিও তিনি বুঝতে পারছেন না। এ ধরনের জাতীয়
গুরুত্বসম্পন্ন একটি বৈঠকে অনুপস্থিত থেকে দায়িত্ব হালকাভাবে নেওয়ার প্রবণতাকে মোটেও সহজভাবে মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি
সতর্ক করে দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, সরকারি প্রশাসনিক বৈঠকে অবহেলা বা হালকা মনোভাব
দেখানোর সুযোগ নেই।
অনুষ্ঠানের
একপর্যায়ে সভার প্রকৃত উপস্থিতি যাচাই করতে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তাকে সভা কক্ষে দাঁড়িয়ে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। রাঙামাটি জেলায় মোট ১০টি উপজেলা রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানালেও, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে মাত্র ছয়জন দাঁড়িয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেন। বাকি চার কর্মকর্তা কেন সভায় অনুপস্থিত—এমন প্রশ্নের জবাবে মঞ্চের সামনে থেকে এক কর্মকর্তা জানান,
অনুপস্থিত এক প্রকৌশলী স্থানীয়
সংসদ সদস্যের সাথে এলাকায় একটি উদ্বোধনী কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছেন।
এ
ধরনের ব্যাখ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী কর্মকর্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের নিয়ম শিখিয়ে দেন। তিনি নির্দেশ দেন যে, এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য কোনো কাজের বিষয়ে বসতে চাইলে কর্মকর্তাদের সেটি যৌক্তিকভাবে বোঝাতে হবে। সংসদ সদস্যকে সরাসরি জানাতে হবে যে, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সচিব তাঁদের ডেকেছেন। ফলে তাঁর সঙ্গে পরের দিন বা সুবিধাজনক সময়ে
বসা যাবে। তবে কোনো অবস্থাতেই কেন্দ্রীয় শীর্ষ প্রশাসনিক সভাকে বাদ দিয়ে সংসদ সদস্যের বৈঠককে বড় মনে করে মূল সভায় অনুপস্থিত থাকা গ্রহণযোগ্য নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।