বাংলাদেশে
আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি সেবা এবং স্কুল ফিডিং কার্যক্রম আরও সুদৃঢ় করতে বড় ধরনের আর্থিক
অনুদান দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে (ডব্লিউএফপি) ৫০ লাখ মার্কিন
ডলার সহায়তা দিয়েছে দেশটি।
ডব্লিউএফপির
পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, প্রাপ্ত এই তহবিলের সঠিক
ব্যবহারের মাধ্যমে কক্সবাজার ও ভাসানচরে বসবাসরত
চার লাখ বাষট্টি হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী উপকৃত হবেন। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী
এবং লার্নিং সেন্টারে নিয়মিত পড়াশোনা করা শিশুরা এই সহায়তার প্রধান
লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক
সহায়তার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে থাকা রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দাদের জন্য এই অনুদান অত্যন্ত
তাৎপর্যপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘রিচ’ শীর্ষক মানবিক উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ হিসেবে এই অর্থ প্রদান
করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায়
ছত্রিশ হাজার গর্ভবতী ও প্রসূতি নারী
বিশেষ পুষ্টি সেবা পাবেন। এছাড়া প্রায় দুই লাখ ষাট হাজার শিশু স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবে।
ডব্লিউএফপির
ই-ভাউচার ব্যবস্থার মাধ্যমে শরণার্থীরা তাদের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী
খাদ্য সামগ্রী নির্বাচন করতে পারছেন। পাশাপাশি পুষ্টি কর্মসূচির মাধ্যমে অপুষ্টির শিকার মা ও শিশুদের
প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবার
সরবরাহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বলেছেন,
বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অন্যদিকে ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা সংকট নিরসনে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ১৯৬৪ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ও ডব্লিউএফপি যৌথভাবে
বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে কাজ করে আসছে।