জাতিসংঘ
সদর দপ্তরে অতীতে কোণঠাসা ও ছোট পরিসরে
সীমাবদ্ধ থাকার দিন পেরিয়ে এবার মূলধারার বড় কক্ষে স্থান
পাওয়াকে নিজেদের জন্য এক অভাবনীয় ‘পদোন্নতি’
বলে অভিহিত করেছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে আয়োজিত এক বিশেষ সাইড
ইভেন্টে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে এই উচ্ছ্বাস প্রকাশ
করেন তিনি।
সোমবার
নিউইয়র্ক সময় জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ‘সামাজিক ব্যবসা, তরুণ ও প্রযুক্তি’ শীর্ষক
একাদশ উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিব্যক্তি জানান।
এই প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান,
তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা এবং ব্রাজিলের মন্ত্রী ওয়েলিংটন দিয়াসসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যের
শুরুতে অতীতে জাতিসংঘের আয়োজনে নিজেদের বসার জায়গার সংকটের কথা স্মরণ করে ড. ইউনূস রসিকতা
করে বলেন, আগের দিনে এমন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্য কেবল একটি ছোট কোণার কক্ষ জুটত, যেখানে সবাইকে গাদাগাদি করে বসতে হতো। তবে সময়ের ব্যবধানে আজ মূল কক্ষে
বন্ধুদের সঠিক উপস্থিতি ও বড় পরিসর
পাওয়ার ঘটনাকে তিনি বড় ধরনের পদোন্নতি
বলে উল্লেখ করেন। যদিও ভবিষ্যতে আবারও কোণায় ফিরে যেতে হতে পারে কি না, তা
নিয়ে কৌতুক করতেও ছাড়েননি তিনি।
জাতিসংঘের
এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে ড. খলিলুর রহমানকে
সভাপতি হিসেবে পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিশ্ব কূটনীতির ভাষা থেকে শান্তির আসল অর্থ খুঁজে নেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। এছাড়া নিজের বক্তব্যে তিনি ক্ষুদ্রঋণের দীর্ঘ পথচলা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘গ্রামীণ আমেরিকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে আট বিলিয়ন ডলার
বিতরণের সফল ইতিহাস তুলে ধরেন। বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসার আওতায় ১৫৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের জীবন বদলে যাওয়ার উদাহরণও তিনি দেন।
অনুষ্ঠানের
সমাপনী পর্বে ড. ইউনূস আগামী
ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ চালুর ঘোষণা দেন। গতানুগতিক চাকরিপ্রত্যাশী তৈরির শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষেই এই উদ্যোগ নেওয়া
হয়েছে বলে তিনি জানান। তিন শূন্যের পৃথিবী অর্থাৎ শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন
নিঃসরণের প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার এই কার্যক্রমে তিনি
বিশ্বনেতাদের জোরালো সমর্থন কামনা করেন।