ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১৪ বছর পর পর্দায় ফিরেই তোলপাড়, দেব-শুভশ্রীর রসায়নে নতুন গুঞ্জন টলিপাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ সখীপুরে মাটির নিচে মিলল দুটি বাক্স, উদ্ধার রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু মদ ও সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতন আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিব আখতার আহমেদ আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি: ভারতের নতুন নীতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পাই ড্রোন’ আটক করল ইরান এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

আড়াই মাসেই অর্ধেক ভর্তুকি শেষ, গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৪:৪৪ পিএম

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ বা নির্দিষ্ট শর্ত দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর বিষয়টি সরকারকে ভাবতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি এবং সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।


জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর নেপথ্যে আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান পরিষ্কার করেন যে, এ বিষয়ে আইএমএফের তরফ থেকে কোনো রকম শর্ত আরোপ করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাধারণ বা মৌলিক নীতি অনুযায়ী, কোনো সরকার যাতে অতিরিক্ত ভর্তুকির চাপে না পড়ে, সেটি তারা প্রত্যাশা করে। কিন্তু বর্তমানে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, তা দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও বাস্তব পরিস্থিতি থেকেই সরকার বিচার-বিশ্লেষণ করছে বলে জানান তিনি।


বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার যে গুঞ্জন রয়েছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দু-এক দিনে সামান্য দুই থেকে তিন শতাংশ কমলেও তা খুবই সামান্য। বর্তমান ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের দাম এখনও ব্যারেলপ্রতি একশ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। ফলে এই দাম কমার ধারা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কোনো জোরালো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।


তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার ঝুঁকি, সৌদি আরবের তেল রপ্তানি কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হওয়া এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তেল শোধনাগার বা স্থাপনাগুলোতে হামলার মতো আন্তর্জাতিক ঘটনাগুলো আগামী দিনে জ্বালানি বাজারকে আরও বেশি অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।


জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর যে বাড়তি আর্থিক চাপ ও কষ্ট তৈরি হচ্ছে, তা অকপটে স্বীকার করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের কষ্ট হচ্ছে এবং তা অনস্বীকার্য। এর আগে যখন জ্বালানি নিয়ে কথা হয়েছে, তখনো বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। তবে সরকারকে অত্যন্ত সীমিত সম্পদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হয়। সরকারের দায়িত্বের পরিধি তুলে ধরে তিনি জানান, জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি, জনস্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতের মতো জনকল্যাণমূলক ক্ষেত্রগুলোতেও বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সব খাতে একসঙ্গে সমপরিমাণ বিপুল অর্থায়ন করা সরকারের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। এ কারণেই বিভিন্ন খাতের মধ্যে পারস্পরিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি হয়ে পড়ে।


গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির তীব্র চাপের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এই খাতে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু বাজেট বাস্তবায়নের মাত্র আড়াই মাসের মাথায় এর প্রায় অর্ধেক বা প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা ইতোমধ্যে খরচ হয়ে গেছে। এই অস্বাভাবিক গতিতে যদি গ্যাস ও বিদ্যুতে ভর্তুকি চালিয়ে যেতে হয়, তবে বছর শেষে এই খাতের ব্যয় সোয়া এক লাখ কোটি থেকে দেড় লাখ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে, যা রাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য বিশাল এক চাপ।


জ্বালানিতে ভর্তুকির এই প্রচণ্ড চাপের মুখেও সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান জানান, সর্বশেষ ২০১৫ সালে সরকারি বেতন স্কেল কার্যকর করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পে-স্কেল বা বেতন কাঠামোতে কোনো সংশোধন আনা হয়নি, যা বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাজারে জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর