ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১৪ বছর পর পর্দায় ফিরেই তোলপাড়, দেব-শুভশ্রীর রসায়নে নতুন গুঞ্জন টলিপাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ সখীপুরে মাটির নিচে মিলল দুটি বাক্স, উদ্ধার রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু মদ ও সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতন আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিব আখতার আহমেদ আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি: ভারতের নতুন নীতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পাই ড্রোন’ আটক করল ইরান এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ তুলল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:৪৩ এএম

বাংলাদেশের মানবাধিকার সুরক্ষার কাঠামোগত ব্যবস্থাকে দুর্বল করা এবং সংস্কার সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)। সংস্থাটির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া বিতর্কিত তিনটি আইন বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রবর্তিত সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছে। এর ফলে অতীতে দেশে ঘটে যাওয়া বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের মতো ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি রোধের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক এই গণমাধ্যমটি।

 

প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশ পরিচালনাকারী অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করতে বেশ কিছু অধ্যাদেশ জারি করেছিল। যার মধ্যে গুমের স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মতো ক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার এমন কিছু আইন প্রণয়ন করেছে, যা মানবাধিকার কমিশনের সাংবিধানিক স্বাধীনতা ও তদন্তের পরিসরকে খর্ব করেছে। বিশেষ করে ৬ সেপ্টেম্বর পাস হওয়া ‘জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’-এর মাধ্যমে আগের সংস্কারগুলোকে পাশ কাটিয়ে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, গুমের মতো অপরাধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নির্ধারণের আইনি মানদণ্ডেও পরিবর্তন এনে সরাসরি নির্দেশ প্রমাণের কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

 

নিরাপত্তা খাতের বহুল আলোচিত সংস্কারের ক্ষেত্রেও সরকারের অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। গত ১০ সেপ্টেম্বর সংসদ কর্তৃক ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন’ পাশের মাধ্যমে র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করা হলেও বাস্তবে তা কেবল প্রতীকী রূপ পরিবর্তন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অতীতে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা এই আধাসামরিক বাহিনীর জনবল, লোগো এবং সম্পদ অবিকল রেখে নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করায় মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। নতুন এই বাহিনী সাধারণ পুলিশের থেকেও কম সুরক্ষা বা জবাবদিহিতার আওতায় রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক এলেইন পিয়ারসন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, অতীতে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হলে কেবল নাম পরিবর্তন নয়, বরং নিরাপত্তা খাতের প্রকৃত ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গঠনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে যেকোনো ধরনের কড়া তদারকি বা জবাবদিহিতা থেকে দূরে রাখার এই প্রবণতা জনমনে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করছে। (সূত্র: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ)

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর