ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১৪ বছর পর পর্দায় ফিরেই তোলপাড়, দেব-শুভশ্রীর রসায়নে নতুন গুঞ্জন টলিপাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ সখীপুরে মাটির নিচে মিলল দুটি বাক্স, উদ্ধার রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু মদ ও সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতন আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিব আখতার আহমেদ আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি: ভারতের নতুন নীতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পাই ড্রোন’ আটক করল ইরান এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

আফ্রিকান প্রতিনিধিত্ব ছাড়া জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতা অসম্ভব: ড. খলিলুর রহমান


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:৫০ এএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী মঞ্চে বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন আশার বাণী শোনালেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য এবং বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন। ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তিনি বিশ্বমঞ্চে সংস্থাটির আমূল সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেন।

 

বক্তব্যের শুরুতেই ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের অনিয়মগুলো অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, জাতিসংঘের অন্যতম প্রধান শান্তিপ্রক্রিয়ার অংশীদার এবং বৃহত্তম আঞ্চলিক শক্তি হওয়া সত্ত্বেও আফ্রিকা এখনো নিরাপত্তা পরিষদের কোনো স্থায়ী আসন পায়নি। এটিকে নিছক করুণা নয়, বরং বৈশ্বিক ন্যায়বিচার ও জাতিসংঘের নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন হিসেবে অভিহিত করে তিনি আফ্রিকাকে নীতিনির্ধারণী টেবিলে যথাযথ স্থান দেওয়ার জোর দাবি জানান।

 

বিশ্বজুড়ে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে গিয়ে তিনি গাজা, সুদান, ইউক্রেন, মিয়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যের ভয়াবহ সংঘাতের প্রসঙ্গ টানেন। আন্তর্জাতিক আইন ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষার নীতি কোনোভাবেই পক্ষপাতমূলক হতে পারে না বলে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং হাইতিতে জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এই বাংলাদেশি কূটনীতিবিদ।

 

আর্থসামাজিক বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে ড. রহমান জানান, বিশ্বজুড়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গতি যখন শ্লথ, ঠিক সেই মুহূর্তে ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা ২৩ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে। অথচ এর উল্টো পিঠে বিশ্বব্যাপী সামরিক বাজেট লাফিয়ে লাফিয়ে পৌঁছে গেছে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে। মানবীয় উন্নয়নের চেয়ে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় অর্থ বরাদ্দের এই প্রবণতাকে তিনি চরম হতাশার বলে উল্লেখ করেন।

 

ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত হুমকি মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ঝুঁকি নিয়েও বিশ্বনেতাদের সতর্ক করেছেন ড. খলিলুর রহমান। জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ এবং সামরিক খাতের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এআই-এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানবসভ্যতার অস্তিত্ব বিপন্ন করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এই বিপজ্জনক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে দ্রুত একটি বৈশ্বিক নীতিমালা বা গার্ডরেল তৈরির তাগিদ দেন তিনি। বৈশ্বিক আস্থা ফেরাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুশীল সমাজ ও বিজ্ঞানীদের সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর