জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় বুধবার নিউইয়র্ক শহরে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘায়িত সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন সরকারপ্রধান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশি কনটেইনার জাহাজগুলোর নিরাপদ বহির্গমন এবং মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত লাখ লাখ প্রবাসীর জীবন সুরক্ষার জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিতে তেহরানের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান যে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কেবল প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিট্যান্স প্রবাহকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও গভীর সংকট তৈরি করতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতির দ্রুত অবসান ঘটিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ইরানের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘের এই নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত রয়েছে ঢাকা। কোনো বিশেষ পক্ষের দিকে না ঝুঁকে সংলাপের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের উত্থাপিত এই সুনির্দিষ্ট উদ্বেগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে তেহরান প্রশাসন।