অনলাইন রিপোর্টার
ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ কেবল নবায়ন করার পক্ষে নয় বাংলাদেশ, বরং দেশটির পক্ষ থেকে একটি নতুন ও সময়োপযোগী চুক্তি প্রণয়নের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। নতুন এই চুক্তিতে দেশের স্বার্থের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি ক্লজ বা নিশ্চয়তার ধারা যুক্ত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
রাজধানীতে নদী রক্ষা ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে দেশের নদীগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে পানিসম্পদমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হলো নদ-নদী। কিন্তু বর্তমান সময়ে বেপরোয়া শিল্পায়ন এবং বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে দেশের প্রতিটি নদীর ওপর। নদী রক্ষায় কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দূষণের মূল উৎসগুলো চিহ্নিত করে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র বুড়িগঙ্গা নদীকে রক্ষা করা এখনও প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে টিকে রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানানো হয় যে, ঢাকা মহানগরী এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৯০০ মিলিয়ন লিটার পানির বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে অত্যন্ত আশঙ্কাজনকভাবে ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন লিটার বর্জ্য সরাসরি বিভিন্ন নদীর পানিতে গিয়ে মিশছে। পরিবেশ দূষণের এই ভয়াবহ মাত্রার কারণে প্রতিবছর দেশের অর্থনীতিকে বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। দেশের নদীগুলোকে রক্ষা করতে হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই বেহাল দশা দ্রুত দূর করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেন।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে এবং পানিসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।