ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইমরান সমর্থকদের মিছিল ঠেকাতে ইসলামাবাদ লকডাউন ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন: জাতিসংঘের বাইরে ম্যানহাটনজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করল ৭৭টি দেশ বিয়ের জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি, ফের কারাগারে বর নতুন পে স্কেলে পেনশন নির্ধারণ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনা ইউক্রেনের সামরিক সহায়তায় ৬.৬ বিলিয়ন ইউরো দিচ্ছে ইইউ রাজবাড়ীতে ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল বাবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন টানা সাত দিনের ছুটি নাহিদ-হাসনাত-সারজিস একসময় ছাত্রলীগ করতো: মীর শাহে আলম

নেতানিয়াহুর সফরের প্রতিবাদে নিউইয়র্কের রাজপথে বিক্ষোভ: আটক ১০৩ সংস্কৃতি কর্মী


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৫:১৪ পিএম

রূপালি পর্দার ব্যস্ততা ও গ্ল্যামারময় জীবন পেছনে ফেলে তারা নেমে এসেছিলেন ব্যস্ত রাজপথে। হাতে ফিলিস্তিনের পক্ষে লেখা প্ল্যাকার্ড আর কণ্ঠে যুদ্ধবিরোধী স্লোগানে মুখরিত ছিল নিউইয়র্কের রাজপথ। গাজার নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পক্ষে সোচ্চার হয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্ক পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেত্রী সুসান সার‍্যান্ডন এবং জনপ্রিয় কমেডি সিরিজ ‘হ্যাকস’ খ্যাত তারকা হান্নাহ আইনবাইন্ডারসহ শতাধিক খ্যাতনামা সংস্কৃতি কর্মীকে। মূলত চলমান জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর যোগদান ও তার আগ্রাসী নীতিমালার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের রাজপথে নেমেছিলেন এই অধিকারকর্মীরা। অন্যায় ও নির্বিচার সহিংসতার বিরুদ্ধে জোরালো স্লোগান দেওয়ার অপরাধে শেষ পর্যন্ত দুই মার্কিন তারকাসহ বহু সংস্কৃতিক কর্মীকে হাতকড়া পরতে বাধ্য হয় এবং প্রিজন ভ্যানে করে থানায় নিয়ে যায় নিউইয়র্ক পুলিশ প্রশাসন।


জাতিসংঘের প্রধান সদর দপ্তরের মাত্র কয়েক ব্লক দূরে অবস্থিত ব্যস্ত ফার্স্ট অ্যাভিনিউতে বসে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন শত শত অধিকারকর্মী ও বিনোদন জগতের তারকারা। ওই প্রতিবাদ সমাবেশে শুধু সুসান বা হান্নাহই নন, বরং সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় সিরিজ ‘সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি’ খ্যাত অভিনেত্রী সিনথিয়া নিক্সন, প্রখ্যাত নাট্যকার টনি কুশনার, কমেডিয়ান ক্যালেব হিয়ারন ও লেখক গ্লেনন ডয়েলসহ বিনোদন ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বহু পরিচিত মুখ। এ সময় বিক্ষোভকারীদের পরনে বিশেষ টি-শার্ট দেখা যায়, যেখানে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা ছিল ‘বোমায় নয়, মানুষের পেছনে অর্থ দিন’। এছাড়া তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে স্লোগান হিসেবে লেখা ছিল ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করো’ এবং ‘ফিলিস্তিনে গণহত্যা থামাও’। ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘জিউয়িশ ভয়েস ফর পিস’-এর আহ্বানে সাড়া দিয়েই এই হলিউড তারকারা রাজপথে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতে একপর্যায়ে নিউইয়র্ক পুলিশ কঠোর অবস্থানে যায় এবং মোট ১০৩ জন অধিকারকর্মীকে আটক করে, যাদের মধ্যে অস্কারজয়ী সুসান সার‍্যান্ডন ও হান্নাহ আইনবাইন্ডারও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।


গত বছর জাতিসংঘ পরিচালিত এক স্বাধীন তদন্তে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার ও নৃশংস হামলার ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি যুদ্ধাপরাধের গুরুতর অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে। যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এই সমস্ত আন্তর্জাতিক অভিযোগ বরাবরই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, তবুও বিশ্বজুড়ে তার নীতির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বিন্দুমাত্র থামেনি। জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের পরও নিউইয়র্কের রাজপথে শত শত প্রতিবাদকারী বিশাল মার্চ করেন, যাদের মূল কণ্ঠে ছিল ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার জোরালো দাবি। এই বিক্ষোভ মিছিলে বিনোদন ও সংস্কৃতি অঙ্গনের তারকাদের সরব উপস্থিতি বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।


উল্লেখ্য, অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সার‍্যান্ডন দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার ও মুক্তির পক্ষে অত্যন্ত সোচ্চার ও দৃঢ় কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। গাজায় চলা ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি অতীতেও বহুবার রাজপথে সরব থেকেছেন। এদিকে পুলিশের হাতে আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের স্টোরিতে একটি বিশেষ বার্তা শেয়ার করে ভক্ত ও অনুসারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তরুণ তারকা হান্নাহ আইনবাইন্ডার। তিনি লিখেছেন, নেতানিয়াহুর এই লজ্জাজনক নিউইয়র্ক সফরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে আমি ও আমার সহযোদ্ধা বন্ধুরা গ্রেপ্তার হওয়ার এই ছবিগুলো যদি কারও মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে, তবে তা সম্পূর্ণভাবে ফিলিস্তিন ও দক্ষিণ লেবাননের নির্যাতিত মানুষের ওপর চলা ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক গণহত্যার জন্যই উৎসর্গ করা হোক। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনের বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর