ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১৪ বছর পর পর্দায় ফিরেই তোলপাড়, দেব-শুভশ্রীর রসায়নে নতুন গুঞ্জন টলিপাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ সখীপুরে মাটির নিচে মিলল দুটি বাক্স, উদ্ধার রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু মদ ও সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতন আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিব আখতার আহমেদ আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি: ভারতের নতুন নীতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পাই ড্রোন’ আটক করল ইরান এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

বদলির পরও চার্জশিট দাখিল

মোহাম্মদপুর থানার এসআইকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:২৯ এএম

বদলির পরও চার্জশিট দাখিল: মোহাম্মদপুর থানার এসআইকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা থেকে বদলি হয়ে অন্য কর্মস্থলে যাওয়ার পরও একটি মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এই অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ বিভাগে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। 

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান মোহাম্মদপুর থানা থেকে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহিদুল ইসলামকে তেজগাঁও থানায় বদলির আদেশ দেন। এই আদেশের পর গত ১৮ এপ্রিল তিনি মোহাম্মদপুর থানা থেকে বদলিজনিত প্রস্থান বা সিসি (ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট) নেন। পুলিশি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা সিসি নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে তার দাপ্তরিক সমস্ত সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় এবং সিডিএমএসে তার আইডি লক হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে সিসি নেওয়ার ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ১৯ এপ্রিল তিনি মোহাম্মদপুর থানার একটি মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেন।

 

আলোচিত এই মামলাটি দায়ের হয়েছিল চলতি বছরের গত ২ জানুয়ারি। অবসরপ্রাপ্ত পাইলট সৈয়দ নাজিম মাহমুদ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মোহাম্মদপুর থানায় দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন এসআই মাহিদুল ইসলাম। মামলা রুজুর চার মাসের মাথায় অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হলেও, এর আগেই তিনি থানা থেকে বিদায় নেন। অথচ ১৯ এপ্রিল তিনি অভিযোগপত্র (নম্বর-২৫৮) আদালতে দাখিল করেন।

 

এই ঘটনার পেছনে মোহাম্মদপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিনের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসআই মাহিদুল নিজের আইডি ব্যবহার না করে তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের সিডিএমএস আইডি ব্যবহার করে চার্জশিটটি এন্ট্রি করেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে অভিযুক্ত এসআই মাহিদুল ইসলাম দাবি করেছেন যে তিনি নিয়ম মেনেই চার্জশিট দিয়েছেন এবং রাত ১২টার আগে সিডিএমএসে এন্ট্রি করেছিলেন। অন্যদিকে, তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিন (বর্তমানে ডিবি রমনায় কর্মরত) দাবি করেছেন যে একই ডিভিশনে বদলি হলে চার্জশিট দেওয়া যায় এবং এসআই কীভাবে তার আইডি ব্যবহার করবেন তা তার জানার কথা নয়।

 

আইনজীবীদের মতে, দায়িত্ববহির্ভূত থানা থেকে এভাবে চার্জশিট দাখিল করা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত এবং এটি মামলার কার্যকারিতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, এ ধরনের ঘটনায় আসামিপক্ষ আইনি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পায় এবং মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সঠিক অনুমতি ছাড়া এই ধরনের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের অসদাচরণ বা বিভাগীয় মিসকন্ডাক্ট হিসেবে গণ্য হতে পারে।

 

ঘটনার গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মোহাম্মদ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিসি নেওয়ার পর এসআই মাহিদুল কীভাবে চার্জশিট দাখিল করলেন এবং এতে তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা এই তদন্ত প্রতিবেদনেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ বিভাগ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর