মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাবে বলে জোরালো প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না—সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব এখতিয়ার বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন।
নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ ‘অন-ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা। ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শীর্ষক ওই ব্রিফিংয়ে দক্ষিণ ও সেন্ট্রাল এশিয়া সম্পর্কিত উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানী মরিসনসহ বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক দেশগুলোর গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার বিচার, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ ও আইনি পরিণতি প্রসঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তা জানান যে, এ বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো কোনো নির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক অবস্থান গ্রহণ করেনি। তবে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি যে একটি বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা মার্কিন প্রশাসন অনুধাবন করতে পেরেছে। দুই প্রতিবেশী দেশ আলোচনার মাধ্যমেই এই জটিল অবস্থার অবসান ঘটাবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদী। গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছেন এবং নিজের অনুপস্থিতিতে চলা বিচার চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ চেয়েছেন।
এদিকে, আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাইলে মার্কিন কর্মকর্তা পরিষ্কার ভাষায় জানান যে, এটি একান্তই বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার কেবল সরকারের রয়েছে। মার্কিন পক্ষ এ বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য বা নীতিগত হস্তক্ষেপ করতে নারাজ। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত সন্তোষজনক ও চমৎকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে মার্কিন প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।
বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়ে মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে ওই কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ এমন একটি ভূরাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছে যা অত্যন্ত সংবেদনশীল। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই কোনো দেশকে নির্দিষ্ট কোনো শক্তির পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে না; বরং প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং তাদের ব্যবস্থার নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প অংশীদার হতে চায়। এছাড়া জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাতের সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি জানান, রাষ্ট্রপ্রধানদের ঠাসা সূচির কারণে নির্দিষ্ট সাক্ষাৎ না হলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন এবং কুশল বিনিময় করেছেন।