রাজধানীর মিরপুরে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ঐতিহাসিক একটি মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুর, লুটপাট ও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার রোমহর্ষক ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই নাশকতার ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে শাহ আলী থানা পুলিশ ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১ এলাকার সুপরিচিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে এই বর্বর হামলা সংঘটিত হয়। সংঘবদ্ধ মুখোশধারী দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিতভাবে সেন্টারে প্রবেশ করে এবং দায়িত্বে থাকা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে রশি দিয়ে বেঁধে জিম্মি করে ফেলে। এরপর চিকিৎসাকেন্দ্রের মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম, জরুরি ওষুধ, জীবন রক্ষাকারী টিকা, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মালপত্র অবাধে লুটপাট করা হয়। লুটপাট শেষেই ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা; বরং ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটির একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো অবকাঠামো সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
শনিবার দুপুরে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে এই চাঞ্চল্যকর গ্রেপ্তারের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), জিহাদ হাসান (২১) এবং মো. রাব্বি (২০) নামের চার তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অন্তত তিনজন শাহ আলী মাজার এলাকার ভাসমান ব্যক্তি এবং আর্থিক চুক্তির লোভেই তারা এই বর্বরোচিত ভাঙচুরে ভাড়াটে হিসেবে অংশ নেয়। পলাতক অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৯৭৪ সাল থেকে দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে মিরপুর অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষের জন্য মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছিল রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের নিয়মিত টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিভিন্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে যাচ্ছিল। এত বড় একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে এমন ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানিয়েছেন, এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে, যদিও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলার আনুষ্ঠানিক এজাহারের কপি তাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এভাবে রাতের আঁধারে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা সৃষ্টি হয়েছে।