ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১৪ বছর পর পর্দায় ফিরেই তোলপাড়, দেব-শুভশ্রীর রসায়নে নতুন গুঞ্জন টলিপাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ সখীপুরে মাটির নিচে মিলল দুটি বাক্স, উদ্ধার রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু মদ ও সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতন আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিব আখতার আহমেদ আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি: ভারতের নতুন নীতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পাই ড্রোন’ আটক করল ইরান এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

বিগত সরকারের টিকা গাফিলতির খেসারত দিতে হচ্ছে জাতিকে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৪:০৫ পিএম

পূর্ববর্তী সরকারের আমলের দীর্ঘ চার বছরের চরম নীতিগত গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণেই দেশের শিশুদের জীবন রক্ষাকারী হামের টিকাদান কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এই দীর্ঘসূত্রিতা ও অবহেলার কারণে বহু মায়ের বুক খালি হয়েছে এবং অসংখ্য শিশুর মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে বলে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।


শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীর কড়াইল টিএনটি খেলার মাঠে আয়োজিত বিশেষ হাম টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর সমালোচনা করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিয়মানুযায়ী ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর প্রতি চার বছর পরপর দেশব্যাপী এই ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করার কথা থাকলেও পূর্ববর্তী সরকার তা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছিল। ইউনিসেফের সরাসরি বা ডেলোকেটেড পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত টিকা ক্রয়ের সুযোগ এড়িয়ে উন্মুক্ত দরপত্র বা ওপেন টেন্ডারের মতো দীর্ঘসূত্রিতায় যাওয়ার কারণে মারাত্মক সময়ক্ষেপণ ঘটে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও তৎকালীন নীতিনির্ধারকরা সেদিকে কর্ণপাত করেননি, যার ফলে সৃষ্ট চার বছরের পুঞ্জীভূত ঘাটতির পুরো খেসারত বর্তমান সরকারকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই অবহেলার দরুন প্রায় এক লাখ আক্রান্ত শিশুর মধ্যে প্রায় এক হাজার শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি।


বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত এপ্রিল মাস থেকে জরুরি ভিত্তিতে দেশজুড়ে টিকাদান কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রমে ২ কোটি ২৫ লাখ শিশু অংশ নিলেও প্রথম পর্যায়ের হাম-রুবেলা টিকাদানের বাইরে থেকে গিয়েছিল প্রায় ৪০ লাখ শিশু। এই ব্যবধান দূর করতে ঈদুল আজহার ছুটি পর্যন্ত বিশেষ উদ্যোগে আরও প্রায় ১৪ লাখ শিশুকে খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনা হয়। তবে সংক্রমণ সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়ায় ইউনিসেফের সহায়তায় নতুন করে আরও ৪০ লাখ ডোজ টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগের মজুতের সঙ্গে এই টিকা মিলিয়ে এবার নতুন করে ৩৪ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে দেশব্যাপী বিশেষ ক্যাচআপ কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যার মধ্যে ১০ লাখ সদ্যজাত শিশু এবং ২৪ লাখ পূর্বে বাদ পড়া শিশু রয়েছে। কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ছুটির দিন এবং সন্ধ্যার পরও টিকাদান কেন্দ্র খোলা রাখার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


চিকিৎসা খাতের বিভিন্ন উদ্ভাবন ও চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুরা হামে আক্রান্ত হলে খুব দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হয়। এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)-এর খ্যাতনামা গবেষক ও চিকিৎসক ড. চিশতি মাত্র ১৫০ টাকা খরচে বোতলভিত্তিক সাশ্রয়ী সিপ্যাপ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা ব্যবহার করে বহু মুমূর্ষু শিশুর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় এই টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে এবং পরবর্তী মপআপ কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত টিকা সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর