যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত নামী ও বিলাসবহুল হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে একটি অপ্রত্যাশিত ও অত্যন্ত অপ্রীতিকর উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে সেখানে সমবেত হওয়া দলের কিছু বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীর তীব্র আক্রোশ ও বিশৃঙ্খলার মুখে পড়েন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। দলীয় প্রধানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে ব্যর্থ হওয়ার চরম হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই মূলত তার ওপর এই হেনস্তার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওচিত্র থেকে স্পষ্টত দেখা যায়, গত শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোররাতের দিকে এই লজ্জাজনক ঘটনাটি ঘটে। ওই সময়ে হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতের লবি ও লিফট প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি থাকায় বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপস্থিত কিছু প্রবাসী নেতাকর্মী শামা ওবায়েদকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন। এমনকি উন্মত্ত ভিড়ের পেছন থেকে কাউকে কাউকে তাকে মারধরের মতো গুরুতর উসকানিমূলক কথা বলতেও পরিষ্কার শোনা গেছে। ওই নাজুক মুহূর্তে শামা ওবায়েদের ছেলেও তার পাশেই উপস্থিত ছিলেন।
ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা বিশ্লেষণ করে আরও জানা যায়, শামা ওবায়েদ যখন হোটেলের লিফটের ভেতরের অংশে অবস্থান করছিলেন, তখন তার পরিবারের অন্য সদস্য ও স্বজনেরা বাইরে আরেকটি লিফটের অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি যখন চরম উত্তপ্ত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করে, তখন মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শামা ওবায়েদের ছেলে সামনে এগিয়ে আসেন এবং উচ্চস্বরে বলেন, ‘আমার মা এইটা।’ ঠিক ওই মুহূর্তটিতেই বিক্ষুব্ধদের ভিড় থেকে এক ব্যক্তি তাকে সজোরে ধাক্কা দেন। ঘটনার শেষ পর্যায়ে এসে এক নারীও শামা ওবায়েদের ছেলের গায়ে হাত তোলেন এবং পেছন থেকে তাকে বারবার ধাক্কা দিতে থাকেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই গুরুত্বপূর্ণ নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র শাখা বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আবেগ কাজ করছিল। দলের সর্বোচ্চ নেতাকে সরাসরি একনজর দেখা এবং তাকে শুভেচ্ছা জানানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও দূরদূরান্তের শহর থেকে বহু নেতাকর্মী নিউইয়র্কে এসে পৌঁছান। তাদের বিশাল একটি অংশ হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতের লবি ও এর আশপাশে জড়ো হয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন।
তবে কঠোর প্রটোকল ও নিরাপত্তার বেড়াজালে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করার পরও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অনেক নেতাকর্মী শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। কাঙ্ক্ষিত দেখা না পাওয়ার এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও বঞ্চনার কারণে দূরদূরান্ত থেকে আসা শত শত সাধারণ কর্মী চরম ক্ষोভে ফেটে পড়েন। এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণেই মূলত হোটেল চত্বরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদকে হেনস্তার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় রূপ নেয়।
এ ধরনের ঘটনা প্রবাসে দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও প্রটোকল ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্কতা থাকলে এ ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।