কোনো ধরনের বহিরাগত চাপ কিংবা প্ররোচনার মুখে নয়, বরং দেশের দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও কৌশলগত চাহিদাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন বিমান ক্রয়ের চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক ৮১তম অধিবেশন সফলভাবে সম্পন্ন করে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে প্রত্যাবর্তন করার পর আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে পৌঁছানোর পর দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মাহদী আমিন জানান, বিশ্বমঞ্চে বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা ও দেশের আত্মমর্যাদা এখন অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ নেতারা যেভাবে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সাদরে গ্রহণ করেছেন, তা বাংলাদেশের কূটনৈতিক সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার মতে, এবারের ৫ দিনের এই সরকারি সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন করে ১১টি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের একটি বড় চুক্তি সম্পন্ন হয়। এই চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জন ও চাপের কানাঘুষা চললেও মাহদী আমিন সেই সমস্ত জল্পনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, কোনো ধরনের বাহ্যিক চাপে পড়ে নয়, বরং দেশের এভিয়েশন খাতের ক্রমবর্ধিষ্ণু চাহিদা পূরণ, নতুন লাভজনক আন্তর্জাতিক রুট চালু এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বাণিজ্যিক স্বার্থকে সুরক্ষিত করার লক্ষ্যেই এই চুক্তি করা হয়েছে। জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থাকে আরও দক্ষ ও বিশ্বমানের করে তুলতে এই সিদ্ধান্ত অপরিহার্য ছিল।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। সম্প্রতি রাড্ডা ও জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। সরকারের নাম ভাঙিয়ে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ যদি কোনো ধরনের বেআইনি অপকর্ম, বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে নমনীয় হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের এই সফর যেমন বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্ত করেছে, তেমনি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার প্রশ্নে সরকারের দৃঢ় অবস্থান দেশবাসীকে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।