রাজধানীর মিরপুরের সুপরিচিত রাড্ডা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সংঘটিত বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটের ঘটনায় স্থানীয় থানা পুলিশের স্পষ্ট নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বহীনতা খুঁজে পাওয়া গেছে। স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ মিলেছে এবং অভিযুক্ত ওসির বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই কঠোর বার্তা দেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, হামলাকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় প্রভাব কোনোভাবেই আমলে নেওয়া হবে না। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হাতে আইনি ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর। এছাড়া সরকারের নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের অপকর্ম বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে শাহ আলী থানা এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে নির্বিচারে তাণ্ডব চালায়। হামলাকারীরা কর্তব্যরত দুই নৈশপ্রহরীর হাত-পা বেঁধে মারধর করার পর হ্যামার ও ভারী যন্ত্রপাতি (ভেকু) ব্যবহার করে হাসপাতালের সীমানা প্রাচীরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেবা কক্ষ সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেয়। মামলা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা ক্লিনিকের ভেতরে থাকা জীবনরক্ষাকারী ওষুধপত্র, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, এসি এবং ফ্রিজসহ প্রায় ৬০ লাখ টাকার মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া ভবন ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আরও প্রায় ২৯ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের এই কঠোর পদক্ষেপে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের আশা, দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং জড়িত প্রকৃত অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি হবে।