কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সংঘটিত ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক দল বিএনপির বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগ তোলার বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ‘ঢালাও মন্তব্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রাথমিক তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্যের বরাਤੇ তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মূলে কোনো রাজনৈতিক চাঁদাবাজি নয়, বরং একটি দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও জবরদখলের চেষ্টা জড়িত ছিল।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানী ঢাকার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রসঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গত শনিবার গভীর রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে অবস্থিত জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পরপরই সালমান মুক্তাদির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে তিনি বিএনপির লোকজনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ তোলেন এবং দাবি করেন যে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই তার স্টুডিওতে এই ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তার সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সালমান মুক্তাদিরের করা সেই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঘটনাস্থলে একটি অত্যন্ত জটিল বিরোধপূর্ণ জমি রয়েছে এবং তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আইনি ও অনৈতিক দ্বন্দ্ব চলে আসছে। ওই সম্পত্তির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা দখল নেওয়ার জন্য এক পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেখানে যায় এবং শক্তিপ্রয়োগ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। সেই সংঘটিত বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার মাঝেই সালমান মুক্তাদিরের কনটেন্ট তৈরির স্টুডিওটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভাঙচুরের মুখে পড়ে। এই পুরো ঘটনার নেপথ্য বিশ্লেষণ করে মন্ত্রী জানান, জনপ্রিয় এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর মূলত একপ্রকার ‘ভিকটিমাইজ’ বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দলের নাম জড়িয়ে চাঁদাবাজির এ ধরনের অভিযোগ তোলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ও যাচাই-বাছাই ছাড়াই একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে এমন ঢালাও মন্তব্য করা একেবারেই সমীচীন নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার শিকার হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী সালমান মুক্তাদির সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক বা সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেননি। এছাড়া তিনি নিজেও নাকি একপর্যায়ে গণমাধ্যম বা অন্য মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন যে তার কাছে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যদি এই ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দেখবে এবং এর পেছনে জড়িত প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বারবার কঠোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, দেশে যেকোনো ধরনের জবরদখল, বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার মতো অনভিপ্রেত ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে কোনো প্রকার সত্যতা যাচাই না করে ঢালাওভাবে রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে।