রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও জবরদখলের মর্মান্তিক ঘটনার পর অবশেষে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে নিষ্ক্রিয়তা ও পেশাগত অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি সদরদপ্তরের এক বিশেষ অফিস আদেশে ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহারের এই নির্দেশ জারি করা হয়। এর আগে গত শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত ঘটনাস্থল নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। সে সময় তিনি গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এই স্পর্শকাতর ও ন্যক্কারজনক ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই প্রাথমিক তদন্ত ও পর্যালোচনার পরই ওসির বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংঘটিত ওই হামলায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রাড্ডা এমসিএইচ’র একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো চিকিৎসাকেন্দ্রের অবকাঠামো সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলাকারীরা শুধু ভবন ভাঙচুরই করেনি, বরং ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, চিকিৎসাসামগ্রী এবং টিকাদানের প্রচুর জীবনরক্ষাকারী উপাদান নির্বিচারে লুট করে নিয়ে যায়। তাণ্ডব শেষে অপরাধীরা ঘটনাস্থলে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়ে সম্পত্তি জবরদখলের অপচেষ্টা চালায়।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আইনি লড়াই শুরু হয়। রাড্ডা এমসিএইচ-এর নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা হানিফসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এমন বেপরোয়া হামলার ঘটনায় জড়িত মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন মহলে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের এই পদক্ষেপে তদন্ত প্রক্রিয়ায় গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।