ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় বিএনপি নেতার বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৭:১৭ পিএম

খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎ করেই তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে ২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলমের বাসভবনে সংঘটিত হয়েছে এক বর্বরোচিত হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা। হামলাকালে দুর্বৃত্তরা সুনির্দিষ্ট স্লোগান দিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত তৎপর হয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।


ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খুলনা মহানগরীর টুটপাড়া এলাকার মওলার বাড়ির সামনে অবস্থিত ২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলমের ব্যক্তিগত বাসভবনকে লক্ষ্য করে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলা সূত্রে প্রকাশ, হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে এসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে হঠাৎ করেই এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে।


তাদের আকস্মিক এই হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে দুর্বৃত্তরা বাড়ির সামনে পার্কিং করে রাখা একটি ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়। এই ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরদিন শনিবার ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল আলম নিজেই বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।


মামলা রুজু হওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশ আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও নিখুঁত বিশ্লেষণ শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় গত শনিবার দিবাগত গভীর রাতে, অর্থাৎ রাত ২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত লবণচরা থানার অধীন হরিণটানা রিয়া বাজার এলাকায় একটি বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। দীর্ঘ রাতভর চলা এই অভিযানে এই চাঞ্চল্যকর মামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত সন্দেহে মোট আটজনকে আটক করা হয়।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলো—রাজ, ফাহিম খান, আরাফাত ইসলাম নাহিদ, ইয়ামিন শেখ, সুজন ইসলাম, মহারাজ মোল্লা, মোহাম্মদ আলী এবং মো. শুভ ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃত সবাই খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আজ তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মোহাম্মদ আলী ও শুভ ইসলামকে সরাসরি খুলনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, বাকি ছয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বা কিশোর হওয়ায় শিশু আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনানুযায়ী তাঁদের যশোরের ঝিকরগাছাস্থ কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।


এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে ব্রিফিংকালে খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হাকিম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে খুব কম সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তিনি আরও দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী ও সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো উসকানিদাতা বা মাস্টারমাইন্ড জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এবং বাকি পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশের বিশেষ দলগুলোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর