সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 83
রেজাউল
করিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: খানাখন্দ, বড় বড় গর্ত আর কাদা-পানিতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌর শহরের উত্তর ওবদাবাঁদ ও পশ্চিম ওবদাবাঁদের সড়কগুলো এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ উঠে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। ঝুঁকি নিয়ে এসব রাস্তা ব্যবহার করছেন পথচারী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চালকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তর ওবদাবাঁদ ও পশ্চিম ওবদাবাঁদের সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও পিচ উঠে মাটির স্তর বেরিয়ে এসেছে, আবার কোথাও বৃষ্টির পানি ও কাদা জমে রাস্তার অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়েছে। ফলে অনেক জায়গায় বোঝার উপায় নেই, কোনটি রাস্তার গর্ত আর কোনটি সমতল অংশ। সড়ক নাকি কাদামাখা জমি—তা নিয়েও বিভ্রান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় সড়কগুলোর অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানিতে ডুবে যায়। এতে যানবাহন ও পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
এ দুর্ভোগ শুধু পথচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ছোট যানবাহনের চালকরাও প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়ছেন। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে অনেক সময় যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। পাশাপাশি ভাঙাচোরা সড়কে চলাচলের কারণে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে এবং বাড়ছে মেরামতের খরচ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, উত্তর ওবদাবাঁদ ও পশ্চিম ওবদাবাঁদের এসব সড়ক তাদের দৈনন্দিন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ। শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এসব রাস্তা ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় স্বাভাবিক যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাদের দাবি, দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সড়কগুলো পরিদর্শন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে সড়কের পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যাতে সড়কের ওপর পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কের বেহাল দশা দীর্ঘদিন ধরে চললেও স্থায়ী সমাধানের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। দ্রুত সংস্কার করা না হলে আগামী দিনে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে তাড়াশ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফজলুল হক বলেন, সড়কটির পূর্ণ সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, “সড়কের বেহাল দশা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ। আমরা প্রস্তাব দাখিল করেছি, অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে।
তাড়াশ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান জানান, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অনুমোদন
দ্রুত পাওয়া গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে বলে তিনি
আশা প্রকাশ করেন।