ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাড়াশে ঐতিহাসিক ভাঙা মসজিদের পাথর চুরির চেষ্টা


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:৩২ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু,  সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ গ্রামে ঐতিহাসিক ভাঙা মসজিদের মূল্যবান কালো পাথর খুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করেছে স্থানীয় গ্রামবাসী। পরে খবর পেয়ে তাড়াশ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ গ্রামের প্রাচীন ভাঙা মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। স্থাপনাটিতে ব্যবহৃত কালো পাথরগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। সম্প্রতি রাতের আঁধারে কয়েকজন ব্যক্তি মসজিদের কাঠামো থেকে এসব পাথর খুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

 

পাথরগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার নজরে বিষয়টি আসে। পরে তারা অন্যদের খবর দিলে গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের ঘিরে ফেলেন এবং আটক করেন। খবর পেয়ে তাড়াশ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় এলাকায় কিছুটা উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ঐতিহাসিক স্থাপনার অংশবিশেষ এভাবে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুধু চুরির ঘটনা নয়, এটি এলাকার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যও হুমকি। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

নওগাঁ গ্রামের একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মসজিদের পাথর চুরি করা মানে আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও ধর্মীয় সম্মানের ওপর হামলা। এদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে, যাতে আর কেউ এ ধরনের সাহস না দেখায়।”

 

স্থানীয় মসজিদ কমিটি ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও একই দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রাচীন স্থাপনাটির অবশিষ্ট অংশ রক্ষায় কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যাতে কেউ স্থাপনাটির কোনো অংশ নষ্ট বা সরিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়েও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঐতিহাসিক নওগাঁ শাহী মসজিদ বা ভাঙা মসজিদ নামে পরিচিত এ স্থাপনাটি সুলতানি আমলের নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে স্থাপনাটি স্থানীয় মানুষের কাছে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে আসছে। ফলে এর অবশিষ্ট নিদর্শন সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পাথর চুরির চেষ্টার অভিযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাটিরনিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

 

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর