আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের অভিযোগের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। শনিবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের ফতুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিল
শেষে সমাবেশে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক
সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, সরকারের পতন হলেও দেশে
থাকা একটি চক্র দেশ
ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে তারা
মনে করেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকে এসব ষড়যন্ত্র
মোকাবিলা করবে বলেও তিনি
মন্তব্য করেন। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য পরিহারের
আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায়
জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা
প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
ফতুল্লা
থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বারী ভূঁইয়া বলেন,
একটি শ্রেণি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনার দেশে
ফেরার বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন,
পালিয়ে যাওয়া কোনো স্বৈরাচার ফিরে
আসেনি এবং শেখ হাসিনাও
বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না বলে তিনি
মনে করেন।
নির্বাচনের
আগে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত চার
নেতার সমালোচনা করে বারী ভূঁইয়া
বলেন, দলের প্রয়োজনীয়তার কথা
উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
তাদের দেওয়া বক্তব্য সঠিক নয়। দলের
চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি তাদের
আর দলে ফেরার সুযোগ
নেই বলে মন্তব্য করেন।
ফতুল্লা
থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, নেতাকর্মীরা
দীর্ঘ ১৭ বছর সরকারের
বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। ভবিষ্যতেও তারা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে
থেকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবেন। এনসিপি নেতা নাসির উদ্দিন
পাটোয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন,
তাকে রিমান্ডে নিলে ককটেল বিস্ফোরণ
ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের তথ্য বেরিয়ে আসবে।
শেখ
হাসিনা সরকারের আমলে নির্যাতনের অভিযোগ
তুলে টিটু বলেন, বহু
আলেম-ওলামাকে হত্যা, নেতাকর্মীকে গুম ও পঙ্গু
করা হয়েছে। আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশ
ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলেও
তিনি দাবি করেন।
প্রধান
অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, সাত মাস আগে
জনরায়ের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং
৩০ হাজার নেতাকর্মীর জীবনের বিনিময়ে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। আওয়ামী
লীগ বোমাবাজি ও নৈরাজ্য সৃষ্টি
করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে
বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
আত্মগোপনে
থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশে মামুন মাহমুদ বলেন, ‘ঢাকায় বসে গুপ্তভাবে লোক
দিয়ে উস্কানি দেবেন না। সাহস থাকলে
প্রকাশ্যে ফতুল্লায় আসুন।’ তিনি আরও বলেন,
শান্ত পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা হলে
তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
ফতুল্লা
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসান মাহমুদ পলাশের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক
আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন
রুহুল আমিন শিকদার, বাবুল,
রিয়াজ, সাগর সিদ্দিকী, মাহবুবুর
রহমান সুমন, আরিফ, জাকির হোসেন রবিন, আব্দুল খালেক টিপু, আমিনুল ইসলাম লিটন, শাহ আলম পাটোয়ারী,
আল আমিন, জুয়েল আরমান, রাসেল মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম আল আমিন, রূপম,
মিজান, অরুন, রাসেল, আল মামুন, সাজ্জাদ
সাজ, মিঠু খান, রাহাদ
চৌধুরী, তৌহিদ, সৈকত রাজ ও
শাহাদাতসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।