ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাবার জন্য ছোট্ট তুবার আকুতি: ভাইরাল সেই ঘটনার পেছনের গল্প পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি, আটকে গেল রূপপুরের জ্বালানি যুদ্ধের আতঙ্ক মাথায় নিয়েই নতুন শিক্ষাবর্ষে ফিরল ইরানি শিশুরা দক্ষিণ আফ্রিকার একুরহুলেনি এলাকায় দুই মাসে ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার ইউরোপে নাশকতার বড় পরিকল্পনা করছে রাশিয়া: ইইউ সতর্কতা দুই দফা মার্কিন হামলা থেকে যেভাবে বাঁচলেন মোজতাবা হরমুজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮ মার্কিন মেরিন সেনা আহত মিয়ানমার সেনার বিমান হামলায় রক্তাক্ত রাখাইন, নিহত ৩৩ ও আহত ৩৬ আরব সাগর থেকেও শত্রু বাহিনীকে হটিয়ে দেওয়া হবে: খামেনি সাবেক বাণিজ্য মেলার মাঠে তল্লাশি, ২০টির বেশি বিস্ফোরক উদ্ধার

আরব সাগর থেকেও শত্রু বাহিনীকে হটিয়ে দেওয়া হবে: খামেনি


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:১৫ পিএম

স্বাধীনতাকামী ইরানের ভূখণ্ডে বিদেশি আধিপত্য কিংবা নতুন কোনো সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের দিন চিরতরে ফুরিয়ে এসেছে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। সোমবার প্রতিরক্ষা সপ্তাহের বিশেষ বার্তায় তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন যে, খুব দ্রুতই কৌশলগত আরব সাগরের বুক থেকেও আগ্রাসী বিদেশি শক্তিগুলোকে চিরতরে বিতাড়িত করা হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মূলত ১৯৮০ সালে তৎকালীন ইরাকি শাসক সাদ্দাম হোসেন কর্তৃক ইরানে চাপিয়ে দেওয়া রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সেই দিনগুলোর কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে লেবাননের বীর নেতা এবং প্রয়াত হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহর হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে তার সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কথা বিশেষ মর্যাদায় স্মরণ করা হয়। খামেনি বলেন, বিগত দিনে এই পবিত্র ভূমির বিরুদ্ধে যে আগ্রাসী পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল, তা রুখে দিতে দেশের জনগণ ও যোদ্ধারা আপসহীন ভূমিকা পালন করেছে।

দক্ষিণ ইরানের জলসীমার নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি সময় ছিল যখন দক্ষিণাঞ্চলীয় দুটি সাগর বিদেশি আগ্রাসী বাহিনীর জন্য এক প্রকার অবাধ খেলার মাঠের মতো ছিল। কিন্তু সাহসী ইরানি যোদ্ধা এবং দেশের কৌশলগত হরমুজ প্রণালির অতন্দ্র প্রহরীদের কাছ থেকে যখন তারা একের পর এক বেদনাদায়ক ও দাঁতভাঙা জবাব পেল, তখন তাদের আগ্রাসী মনোভাব পুরোপুরি বদলে গেছে। বর্তমানে সেই শক্তিগুলো এতটাই কোণঠাসা যে তারা আর আরব সাগরের ওপারের জলসীমায় পা রাখার দুঃসাহস দেখাতে পারে না। খামেনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অতীতে যখনই তারা কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে গেছে, তখনই তাদেরকে চরম মূল্য চুকাতে হয়েছে। অতএব, এই অঞ্চলের আরব সাগর থেকেও তাদেরকে পুরোপুরি ও স্থায়ীভাবে হটিয়ে দিতে এখন আর খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হবে না।

ইরানি জাতির গৌরবোজ্জ্বল বিপ্লবের ইতিহাস তুলে ধরে খামেনি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের সময়কালকে ‘অন্ধকার দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, বিপ্লব-পূর্ব সেই সময়গুলোতে তৎকালীন ইরানি সম্রাটের নিকট আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর বিদেশি রাষ্ট্রদূতেরা নিয়মিত গোপন ও প্রকাশ্য নির্দেশনা পৌঁছে দিত এবং সম্রাট নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা না রেখে ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় সেই বিদেশি হুকুমগুলো অন্ধের মতো বাস্তবায়ন করতেন। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষকে চরম পরাধীনতা ও শোষণের জাঁতাকলে পিষ্ট হতে হয়েছিল।

তবে ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লব সেই অন্যায় ও পরাধীন কাঠামোর মূলোৎপাটন ঘটিয়ে দেশের শাসনব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। খামেনি বলেন, এই অভাবনীয় পরিবর্তন সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্য বিস্তার করতে চাওয়া শক্তিগুলোর জন্য মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও অসম্ভব ছিল। কারণ ওই শক্তিগুলোর প্রধান লক্ষ্যই ছিল ইরানের অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর লোলুপ দৃষ্টি রাখা এবং বছরের পর বছর ধরে দেশের সাধারণ মানুষের ওপর নানামুখী অবিচার চালিয়ে সেই মূল্যবান সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শোষণ করা। কিন্তু আজ স্বাধীন ও সার্বভৌম ইরান যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সম্পূর্ণ সক্ষম।

সূত্র: প্রেস টিভি


এ সম্পর্কিত আরো খবর