দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনৈতিক কেন্দ্র জোহানেসবার্গের নিকটবর্তী এলাকায় নারীদের ওপর ধারাবাহিক সহিংসতার এক ভয়ঙ্কর চিত্র সামনে এসেছে। গত দুই মাসের ব্যবধানে দেশটির একুরহুলেনি পৌর এলাকা থেকে একে একে ১১ জন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একের পর এক এমন মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
সর্বশেষ গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) একুরহুলেনি অঞ্চলের একটি উন্মুক্ত মাঠ থেকে পুলিশ এক নারীর নিথর দেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের টহল দলের সদস্যরা প্রথমে মরদেহটি দেখতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেন। তবে নিহত ওই নারীর নাম, বয়স কিংবা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। এর মাত্র একদিন আগে একই পৌরসভার একটি কবরস্থানের কাছাকাছি এলাকা থেকে আরেক নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রাথমিক সুরতহাল ও তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, ওই নারীকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে প্রায় চার শ কিলোমিটার দূর থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এ নিয়ে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হত্যার ঘটনায় পুলিশি হেফাজতে মোট চারজন সন্দেহভাজনকে নেওয়া হয়েছে। তবে এই সমস্ত হত্যাকাণ্ডের পেছনে একক কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কোনো অপরাধী চক্রের হাত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পায়নি তদন্ত দল।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই ও আগস্ট মাসে একুরহুলেনি এলাকার মাত্র ছয় কিলোমিটারের ব্যাসার্ধের মধ্যে তিন নারীর মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল। এরপর চলতি সেপ্টেম্বর মাসের কেবল ১০ দিনের ব্যবধানে আরও ছয়টি মরদেহ উদ্ধারের পর পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বহুগুণ বেড়ে গেছে। উদ্ধার হওয়া নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে সম্পূর্ণ বা আংশিক নগ্ন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, যা ঘটনাগুলোকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
এই ধারাবাহিক খুনগুলোর রহস্য ভেদ করতে ইতোমধ্যে পুলিশের একটি বিশেষ তদন্ত দল মাঠে নেমে কাজ শুরু করেছে। তদন্তকারীরা প্রতিটি ঘটনার মধ্যে কোনো সংযোগ বা যোগসূত্র আছে কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খতিয়ে দেখছেন। দেশটিতে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও অপরাধের মাত্রা দীর্ঘকাল ধরেই একটি বড় সামাজিক ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক এই রোমহর্ষক ঘটনাগুলো দক্ষিণ আফ্রিকায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চরম শঙ্কা তৈরি করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা