রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সাবেক বাণিজ্য মেলার মাঠে এক আকস্মিক ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিশেষ শাখা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। দেশের অন্যতম অতিসংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত গণভবনের পেছনের ওই বিস্তীর্ণ মাঠ ঘিরে রেখে চালানো এই বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে উঠেছে, যা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাঠের বিভিন্ন গোপন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে কুচক্রী মহলের লুকিয়ে রাখা বিশটিরও বেশি তাজা ককটেল এবং পেট্রোল বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও জনবহুল এই এলাকায় এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক জমা করার পেছনে কোনো বড় ধরনের নাশকতামূলক পরিকল্পনা বা অশুভ উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিস্ফোরক উদ্ধারের পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা এলাকাটি কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-এর দ্বিতীয় ইউনিটের অধিনায়ক ও অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) নাঈমুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাবেক বাণিজ্য মেলার মাঠে এই অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া বিপজ্জনক বিস্ফোরকগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেগুলোকে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করতে দ্রুত বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে ঘটনাস্থলে তলব করা হয়। বর্তমানে বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিস্ফোরকগুলো নিষ্ক্রিয়করণের কাজ পরিচালনা করছে।
প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকৃত এই বিস্ফোরকগুলো সেখানে কীভাবে এবং কারা নিয়ে এসে জমা করেছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পুরো ঘটনার নেপথ্যে থাকা অপরাধীদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের গোপন নেটওয়ার্ক উদঘাটনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জোরেশোরে ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, সম্পূর্ণ অভিযান ও বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণের কাজ সফলভাবে শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে এ ধরনের বিস্ফোরক মজুতের ঘটনা উদ্ঘাটন এবং যেকোনো নাশকতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি কঠোরহস্তে দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকায় বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।