দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমাবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মশাবাহিত এই মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৩৬ জন রোগী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান বিস্তার ও ভয়াবহতার চিত্রকেই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে প্রকাশ, এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার মধ্য দিয়ে চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৩ জনে। বছরজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভিন্নমাত্রা নিলেও আগস্ট মাসে এর ভয়াবহতা ছিল বেশ স্পষ্ট, যেখানে কেবল ওই মাসেই মারা গেছেন ৪৩ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৭ দিনে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে পৌঁছেছে ১৩৬ জনে। এর আগের জুলাই মাসে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং বছরের প্রথম দুই মাস জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মোট চারজন রোগীর মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছিল।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আগের দিন সকাল আটটা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হওয়া দুই হাজার ৩৬ জনের সুবাদে চলতি বছরে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া মোট রোগীর সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ৭৫ হাজার ৭৩০ জনে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, একই সময়সীমায় হাসপাতালগুলো থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুই হাজার ৬৪ জন রোগী। এর মাধ্যমে মহামারীর শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭০ হাজার ২৫৮ জন আক্রান্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন।
বিভাগওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও রোগী ভর্তির ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকাসহ ঢাকা বিভাগে, যেখানে একদিনেই আট শতাধিক অর্থাৎ ৮০৭ জন হাসপাতালে শরণাপন্ন হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৩২৩ জন, খুলনা বিভাগে ২৬৭ জন, বরিশাল বিভাগে ২৫৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১৫ জন এবং রংপুর বিভাগে ৬২ জন নতুন রোগী চিকিৎসাধীন হয়েছেন। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই ডেঙ্গুর এই বিস্তার স্বাস্থ্য খাতের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার মৌসুম ও জমে থাকা পানির কারণে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা না গেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। সাধারণ জনগণকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত মনিটরিং চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ডেঙ্গুর এই লাগাম টেনে ধরতে সামগ্রিক জনসচেতনতা ও কার্যকর মশানিধন অভিযান পরিচালনা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।