চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সার্বিক উন্নয়ন সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করার ওপর জোরালো তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান জানান। দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় করার ওপর বৈঠকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে জানান যে, ফলপ্রসূ এই আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের মতো আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সাক্ষাতের শুরুতে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অত্যন্ত সফল অংশগ্রহণ এবং নিউইয়র্কের বিভিন্ন কূটনৈতিক কর্মসূচি চমৎকারভাবে সম্পন্ন হওয়ায় তাঁকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান আর্থসামাজিক উন্নয়ন প্রচেষ্টায় চীনের ধারাবাহিক ও স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত বলেন, আগামী দিনগুলোতেও বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রযাত্রায় বেইজিংয়ের সহায়তা আগের মতো অব্যাহত থাকবে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় ও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় চীনের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উচ্চপর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। অন্যদিকে, বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন। দুই দেশের নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই উপস্থিতিতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোকে উন্মুক্ত করার বিষয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।