ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাবার জন্য ছোট্ট তুবার আকুতি: ভাইরাল সেই ঘটনার পেছনের গল্প পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি, আটকে গেল রূপপুরের জ্বালানি যুদ্ধের আতঙ্ক মাথায় নিয়েই নতুন শিক্ষাবর্ষে ফিরল ইরানি শিশুরা দক্ষিণ আফ্রিকার একুরহুলেনি এলাকায় দুই মাসে ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার ইউরোপে নাশকতার বড় পরিকল্পনা করছে রাশিয়া: ইইউ সতর্কতা দুই দফা মার্কিন হামলা থেকে যেভাবে বাঁচলেন মোজতাবা হরমুজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮ মার্কিন মেরিন সেনা আহত মিয়ানমার সেনার বিমান হামলায় রক্তাক্ত রাখাইন, নিহত ৩৩ ও আহত ৩৬ আরব সাগর থেকেও শত্রু বাহিনীকে হটিয়ে দেওয়া হবে: খামেনি সাবেক বাণিজ্য মেলার মাঠে তল্লাশি, ২০টির বেশি বিস্ফোরক উদ্ধার

হরমুজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮ মার্কিন মেরিন সেনা আহত


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:২৩ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনীতি ও কৌশলগত জলসীমায় নতুন করে বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক একটি ঘটনা। এই অঞ্চলের কৌশলগত জলপথে ইরানের নিক্ষিপ্ত একটি শক্তিশালী জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রত্যক্ষ আঘাতে অন্তত আট মার্কিন মেরিন সেনা আহত হয়েছেন। বেশ কিছুদিন আগের এই চাঞ্চল্যকর হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা গুঞ্জন চললেও সম্প্রতি মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ এবং আনাদোলু এজেন্সির প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে হরমুজ প্রণালির অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকায় এই অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি সামুদ্রিক জাহাজকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। ওই সময় জাহাজে অবস্থানরত আটজন মার্কিন মেরিন সেনা এই হামলায় আহত হন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, তাদের কেউ আশঙ্কাজনক বা মারাত্মকভাবে জখম হননি। শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর সৃষ্ট অতিরিক্ত ধোঁয়া থেকে তীব্র শ্বাসকষ্ট, মারাত্মক মাথা ব্যথা এবং মাথায় আঘাত পাওয়ার মতো বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা ও উপসর্গ দেখা দেয় তাদের শরীরে। আহত এই আট সদস্যের দলে সাতজন তালিকাভুক্ত সামরিক সদস্য এবং একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। একটি বিশেষ ব্যাটালিয়ন ল্যান্ডিং টিমের অংশ হিসেবে তারা ওই জলযানে তাদের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছিলেন। হামলার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা আবার নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরে যান বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।


এদিকে এই হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত জলযানটি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে। কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ওই জাহাজটি মার্কিন নৌবাহিনীর নিজস্ব কোনো রণতরী বা যুদ্ধজাহাজ ছিল না। নিরাপত্তার স্বার্থে বা কৌশলগত কারণে জাহাজটির প্রকৃত ধরন বা পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করা থেকে বিরত রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হতাহতের সঠিক পরিসংখ্যান এবং তা নথিভুক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমে’ (ডিসিএএস) গত বুধবার পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সামগ্রিক সংঘাতে মোট ৮৬১ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।


বিশেষভাবে উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বরের ওই হামলার প্রায় দশ দিন পর আহত আট মেরিনের নাম মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ওই কেন্দ্রীয় তালিকায় নতুন করে যুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে মার্কিন এক কর্মকর্তা ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন যে, বিস্ফোরণের অভিঘাতে কিছু শারীরিক উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পায়। পাশাপাশি, ডিসিএএস ডাটাবেজে তাৎক্ষণিক তথ্য হালনাগাদ করার সীমাবদ্ধতার কারণে আহতদের তালিকাভুক্ত করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা ও তথ্য প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ও এনবিসি নিউজ


এ সম্পর্কিত আরো খবর