ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাবার জন্য ছোট্ট তুবার আকুতি: ভাইরাল সেই ঘটনার পেছনের গল্প পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি, আটকে গেল রূপপুরের জ্বালানি যুদ্ধের আতঙ্ক মাথায় নিয়েই নতুন শিক্ষাবর্ষে ফিরল ইরানি শিশুরা দক্ষিণ আফ্রিকার একুরহুলেনি এলাকায় দুই মাসে ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার ইউরোপে নাশকতার বড় পরিকল্পনা করছে রাশিয়া: ইইউ সতর্কতা দুই দফা মার্কিন হামলা থেকে যেভাবে বাঁচলেন মোজতাবা হরমুজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮ মার্কিন মেরিন সেনা আহত মিয়ানমার সেনার বিমান হামলায় রক্তাক্ত রাখাইন, নিহত ৩৩ ও আহত ৩৬ আরব সাগর থেকেও শত্রু বাহিনীকে হটিয়ে দেওয়া হবে: খামেনি সাবেক বাণিজ্য মেলার মাঠে তল্লাশি, ২০টির বেশি বিস্ফোরক উদ্ধার

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি, আটকে গেল রূপপুরের জ্বালানি


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:৪২ পিএম

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত রুশ জ্বালানি বহনকারী বিশেষ কার্গো ফ্লাইট। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকার পরও আকস্মিক এই জটিলতায় আটকে গেছে দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই মেগা প্রকল্পের অতি সংবেদনশীল উপকরণ।


প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা ছিল বিশেষ ওই কার্গো বিমানটির। কিন্তু পাকিস্তান ভূখণ্ড অতিক্রমের অনুমতি না দেওয়ায় নির্ধারিত দিনে জ্বালানি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে আগামী ১ অক্টোবর নতুন করে জ্বালানি দেশে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণে এই সময়সূচিতে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। ঠিক কী কারণে পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন কিংবা প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতাকে এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিকল্প হিসেবে চীন কিংবা মিয়ানমার রুট ব্যবহারের চিন্তাভাবনাও চলছে।


নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে মোট সাতটি বিশেষ ফ্লাইটে রূপপুর প্রকল্পের জন্য ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয়—উভয় ইউনিটের জন্যই জ্বালানি রয়েছে। প্রথম ইউনিটে ইতিমধ্যে প্রাথমিক জ্বালানি লোড করা হলেও পরিচালন নীতি অনুযায়ী দেড় বছর পর এর এক-চতুর্থাংশ পরিবর্তন করতে হবে। সেটির আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই এই চালান আনা হচ্ছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে এই জ্বালানি সরবরাহ করবে।


এদিকে, রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সেফটি ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা সাময়িকভাবে পেছাল। ত্রুটি নিরসনে ইতোমধ্যে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ঢাকায় পৌঁছেছে। তবে মেরামতের কাজ শেষ করে কবে নাগাদ এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।


উল্লেখ্য, অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই পারমাণবিক জ্বালানি কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্য দিয়ে বিশেষ উড়োজাহাজে করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। এরপর সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মাধ্যমে তা সরাসরি পাবনার রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। রাশিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি খাতের এক যুগান্তকারী অধ্যায়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর