আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে একটি সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তার ছেলে কাশিম খান। পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন তীব্র তোলপাড় চলছে এবং তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই রাজপথে বড় ধরনের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানী ইসলামাবাদে দলটির নেতাকর্মীদের বড় জমায়েতের কর্মসূচি থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন আরোপ করায় তা পিছিয়ে আগামী ৫ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। ঠিক এমন একটি জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইমরান খানের মুক্তি সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব হয়তো দিয়েছে শেহবাজ শরিফ সরকার।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাশিম খান আবেগঘন কণ্ঠে প্রকাশ করেছেন যে, কারাগারে ধুকে ধুকে তার বাবা বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়ছেন, যা একজন সন্তানের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বাবাকে দ্রুত কারাগার থেকে মুক্ত করতে যেকোনো কিছু করতে তিনি রাজি আছেন বলেও মন্তব্য করেন। কাশিম স্পষ্ট ভাষায় জানান, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থের কথা বিবেচনা করলে তিনি চাইবেন তার বাবা যেন সরকারের এই প্রস্তাবটি লুফে নেন এবং চুক্তি সম্পন্ন করেন। তবে গত সাত মাস ধরে বাবার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা কথা না হওয়ায় বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে তার ধারণা বেশ সীমিত বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
কাশিম খানের মতে, শেহবাজ শরিফ সরকারের পক্ষ থেকে আসলেই এমন কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ব্লুমবার্গ এই বিষয়ে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তাছাড়া, বর্তমান সরকারের কোনো শর্ত বা প্রস্তাবে ইমরান খান আদৌ রাজি হবেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তার ছেলে। কাশিম মনে করেন, তার বাবা অত্যন্ত দৃঢ় মানসিকতার একজন মানুষ। কারাগারে বন্দি অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মী এবং নিজের পরিবারের কিছু সদস্যের কারাবাসের বর্তমান বাস্তবতায় কেবল নিজের মুক্তির জন্য কোনো আপসনামায় স্বাক্ষর করা বা তাতে সম্মতি জানানো ইমরান খানের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন একটি সিদ্ধান্ত হবে।
আইনি লড়াই এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বাধা প্রসঙ্গে কাশিম বলেন, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তাদের পরিবারের কাউকে বা আইনজীবীদের ইমরান খানের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে আদালতের সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়নি। উল্লেখ্য, সরকারের সঙ্গে এই সম্ভাব্য বোঝাপড়ার গুঞ্জন এবং পিটিআইয়ের নতুন আন্দোলন ঘোষণার ফলে পাকিস্তানের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সূত্র: ব্লুমবার্গ, বিবিসি