রাজধানীর ইসিবি চত্বর সংলগ্ন দক্ষিণ মানিকদীতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ও আবাসন প্রকল্পে সংঘটিত নৃশংস হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের চাঞ্চল্যকর মামলায় সাবেক এক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই নিয়ে আলোচিত এই মামলায় মোট সাতজন আসামিকে আইনের আওতায় আনা হলো।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। ডিবি গুলশান বিভাগের একটি বিশেষ টিম রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে আটক করে। এদিকে একই মামলায় আদালতে হাজির করা অন্য তিন আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছিদ্দিক আজাদের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ক্যান্টনমেন্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত দেবনাথের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, রিমান্ডে যাওয়া তিন আসামি হলেন—মামুন, আসলাম ও মুন্না।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড প্রকল্প এলাকায় প্রায় অর্ধশত সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী দলবদ্ধ হয়ে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। এ সময় তারা ত্রাস সৃষ্টি করতে নির্বিচারে প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীদের সহিংসতায় সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ প্রকল্পের বেশ কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হন। সন্ত্রাসীরা প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বিআরবি ক্যাবল, ক্যামেরা ও প্রফেশনাল মিডিয়া ইকুইপমেন্টসহ বিপুল পরিমাণ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এবং একাধিক গাড়ি ভাঙচুর চালায়। বাদীর করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এই হামলায় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ টাকার ক্ষতি এবং ১ কোটি ৫০ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের মালামাল চুরি হয়েছে। এই ঘটনার সময় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের মালিকানাধীন ‘ব্রাউন ফিস’ নামের স্টুডিওটিতেও অনধিকার প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা-পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। পরে আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগানের পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এজাহারনামীয় আসামিদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকী আসামিদের গ্রেপ্তার করতে এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।